নিউজ পোল ব্যুরো: আলোর ব্যবহার এখন আর শুধু ঘর আলোকিত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; স্থাপত্য, বিনোদন, শিল্পোৎপাদন থেকে শুরু করে শক্তি সাশ্রয়ের পরিকল্পনা সব ক্ষেত্রেই আলোর সঠিক প্রযুক্তিগত প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রয়োজন থেকেই তৈরি হয়েছে লাইটিং টেকনোলজি নামে একটি বিশেষায়িত শিক্ষাক্ষেত্র, যেখানে আলো উৎপাদন, তার নিয়ন্ত্রণ, আলো ছড়ানোর কৌশল এবং বিভিন্ন পরিবেশে তার কার্যকর ব্যবহারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (New Course Admission) নিয়ে বিশদে পড়ানো হয়। বৈদ্যুতিক আলো থেকে শুরু করে আধুনিক এলইডি, লেজ়ার ও স্মার্ট লাইটিং সিস্টেম সবই এই পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি স্থাপত্যে নান্দনিক আলোকসজ্জা, মঞ্চ ও স্টুডিয়ো লাইটিং, শিল্পক্ষেত্রে নিরাপদ ও কার্যকর আলো এবং শক্তি সাশ্রয়ী আলোকব্যবস্থা তৈরির কৌশলও এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ধরা হয়।
আরও পড়ুন: Vijay-Rashmika: নিমন্ত্রণ তালিকায় নাম না থাকায় বাড়িতে ডেকে আপ্যায়ন, বিজয়–রশ্মিকার আয়োজনে তোলপাড়!
এই বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য সাধারণত দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিত নিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া প্রয়োজন। পরবর্তীতে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স বা আর্কিটেকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিষয়ে ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি কোর্সে ভর্তি (New Course Admissio হয়ে লাইটিং টেকনোলজির বিশেষ অংশগুলি শেখা যায়। তবে শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি নয়, মাধ্যমিকের পর থেকেই পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়ে এই বিষয়ে প্রাথমিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, যা সাধারণত দুই থেকে তিন বছরের হয়। এর পাশাপাশি লাইটিং ডিজ়াইনের উপর স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্সও চালু আছে, যা বিশেষ করে স্থাপত্য, ইভেন্ট বা স্টুডিয়ো আলোকসজ্জায় আগ্রহী পড়ুয়াদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়।
দেশে লাইটিং টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ খুব বেশি প্রতিষ্ঠানে না থাকলেও, কয়েকটি উল্লেখযোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই বিষয়ে বিশেষায়িত শিক্ষা প্রদান করে। কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় বহু দিন ধরেই ইলুমিনেশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সংশ্লিষ্ট গবেষণার (New Course Admission) ক্ষেত্রে পরিচিত নাম। এর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি-তেও ইলেকট্রিক্যাল বা ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠক্রমের মধ্যে আধুনিক লাইটিং প্রযুক্তি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ থাকে। নকশা ও নান্দনিক আলোকসজ্জা বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজ়াইন-এ লাইটিং ডিজ়াইন সংক্রান্ত কোর্স বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিপ্লোমা, সার্টিফিকেট এবং কখনও ডিগ্রি পর্যায়ের কোর্স চালু করেছে, যেখানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়।
পড়াশোনা শেষ করার পরে এই ক্ষেত্রে পেশাগত সম্ভাবনাও কম নয়। উচ্চশিক্ষা নিয়ে গবেষণায় (New Course Admission) যেতে চাইলে মাস্টার্স বা পিএইচডি স্তরের ডিগ্রি প্রয়োজন হয়, তবে ডিপ্লোমা বা ব্যাচেলর ডিগ্রি নিয়েও শিল্পক্ষেত্রে কাজের সুযোগ পাওয়া যায়। আলোকসজ্জা পরিকল্পনাকারী, ইলুমিনেশন ইঞ্জিনিয়ার, স্মার্ট লাইটিং বিশেষজ্ঞ কিংবা এনার্জি অডিটর এই সব পদে কাজ করার সুযোগ থাকে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রেই। বড় বড় ক্রিকেট বা ফুটবল স্টেডিয়ামে যে শক্তিশালী ও সুষম আলোর ব্যবস্থা দেখা যায়, তার পরিকল্পনা, নকশা ও বাস্তবায়নের পেছনেও একজন প্রশিক্ষিত লাইটিং টেকনোলজিস্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে, যা এই পেশার বাস্তব প্রয়োগ এবং গুরুত্বকে স্পষ্ট করে।
বৈদ্যুতিক আলোর আবিষ্কার মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে যে বিপ্লব ঘটিয়েছে, তার পেছনে রয়েছে একাধিক বিজ্ঞানীর নিরলস প্রচেষ্টা। হামফ্রি ডেভি-র পরীক্ষাগার থেকে শুরু করে থমাস আলভা এডিসন এবং জোসেফ সোয়ান-এর উদ্ভাবনী কাজ সব মিলিয়েই আধুনিক বৈদ্যুতিক আলোর পথ প্রশস্ত হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রযুক্তি (New Course Admission) আরও উন্নত হয়েছে, ইলেকট্রিক আর্ক ল্যাম্পের জায়গা নিয়েছে শক্তি-সাশ্রয়ী এলইডি, লেজ়ার ও স্মার্ট লাইটিং সিস্টেম। আজকের দিনে আলো শুধু আলোকসজ্জা নয়, বরং শক্তি দক্ষতা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি এবং নান্দনিক ডিজাইনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই দ্রুত বদলে যাওয়া ক্ষেত্রেই গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য তৈরি হয়েছে আলাদা শিক্ষাক্ষেত্র লাইটিং টেকনোলজি। এই বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিতে গেলে কী ধরনের শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রয়োজন, কোথায় এই কোর্সগুলি (New Course Admission) পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের পেশাগত সুযোগ তৈরি হতে পারে তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল বাড়ছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
