নিউজ পোল ব্যুরো: দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় ভয়াবহ সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেনা বহনকারী একটি লকহিড মার্টিন হারকিউলিস সি-১৩০ সামরিক বিমান ভেঙে পড়ায় অন্তত ৬৬ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪৮ জন। এখনও বিমানে থাকা অন্তত ৪০ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে, পুয়ের্তো লেগুইজামো এলাকা থেকে সেনাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিমানটি উড়েছিল। কিন্তু আকাশে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। পেরু সীমান্ত সংলগ্ন দুর্গম আমাজন অঞ্চলে বিমানটি ভেঙে পড়ে বলে জানা গিয়েছে। কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, সোমবার সৈন্য পরিবহনের সময় দক্ষিণাঞ্চলের জঙ্গলঘেরা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি জানান, ঘটনায় ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু আহতকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণে দীর্ঘদিনের বিলম্বের বিষয়টিও তুলে ধরেন। সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় তিনি জানান, দেশের তরুণ সেনাদের জীবন নিয়ে কোনও রকম ঝুঁকি মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজন হলে সামরিক প্রশাসনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর জেনারেল ফার্নান্দো সিলভা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানে মোট ১১৪ জন যাত্রী এবং ১১ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো স্যাঞ্চেজ জানান, বিমানটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। তবে ঠিক কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুল্ক হয়েছে।দুর্ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে বিধ্বস্ত বিমানের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৬০-এর দশকে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীতে হারকিউলিস সি-১৩০ বিমান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বিমানগুলির বয়স বেশি হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ বলিভিয়াতেও একই ধরনের একটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
