নিউজ পোল ব্যুরো: খাওয়াদাওয়ায় কোনও অনিয়ম নেই, তবুও সারাদিন ক্লান্তি, দুর্বলতা আর কাজে মনোযোগের অভাব। এই সমস্যায় ভুগছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর অন্যতম কারণ হতে পারে ভিটামিন বি১২-এর (Vitamin B12) ঘাটতি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দেশের এক বড় অংশের মানুষের শরীরে এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির অভাব রয়েছে, যা দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে।
ভিটামিন বি১২ (Vitamin B12) শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। এটি স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তকণিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্তি আসে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অনেক সময় মাথা ঝিমঝিম বা ‘ব্রেন ফগ’-এর মতো সমস্যাও দেখা দেয়। এছাড়া হাত-পায়ে ঝিনঝিন ভাব, অবশ লাগা কিংবা মনোযোগে ঘাটতির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: karnataka: মন্দিরে জুতো পরে ফটোশুট! কর্ণাটকে চিত্রগ্রাহকদের উপর চড়াও স্থানীয়রা, ভাঙল ক্যামেরা
এই ঘাটতির অন্যতম বড় কারণ হলো খাদ্যাভ্যাস। সাধারণত মাছ, মাংস, ডিমের মতো প্রাণীজ খাদ্যে ভিটামিন বি১২ বেশি পাওয়া যায়। তাই যাঁরা নিরামিষ বা ভেগান খাবার খান, তাঁদের মধ্যে এই ঘাটতি বেশি দেখা যায়। পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে শরীর ঠিকভাবে এই ভিটামিন শোষণ করতে না পারলেও সমস্যা তৈরি হয়। গ্যাস্ট্রিক সমস্যা বা দীর্ঘদিন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনের ফলে এই শোষণ ক্ষমতা কমে যেতে পারে।
ভিটামিন বি১২-এর (Vitamin B12) অভাব ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। প্রথমদিকে সব সময় ক্লান্ত লাগা, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া বা কাজের প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। সমস্যা বাড়লে স্নায়ুজনিত জটিলতাও তৈরি হতে পারে যেমন স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, শরীরের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া বা হঠাৎ পড়ে যাওয়ার প্রবণতা।
এই ঘাটতি পূরণে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। ডিম, মাছ, মাংস, লিভার, দুধ, দই ও পনিরে ভিটামিন বি১২ পাওয়া যায়। নিরামিষভোজীদের ক্ষেত্রে ফর্টিফায়েড সিরিয়াল, প্ল্যান্ট-বেসড দুধ বা নিউট্রিশনাল ইস্টের মতো খাবার সহায়ক হতে পারে।
তবে গুরুতর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র খাবারের উপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা প্রয়োজন। শরীরে পুষ্টির মাত্রা অনুযায়ী সঠিক ডোজ নির্ধারণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
