নিউজ পোল ব্যুরো: স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় ডিমের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রোটিন, ভিটামিন এবং নানা প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর এই খাবারটি প্রায় সব বয়সের মানুষের জন্যই উপকারী। তবে ডিম খাওয়ার সময় একটি প্রশ্ন প্রায়ই ওঠে— শুধু সাদা অংশ খাওয়া ভাল, নাকি কুসুম-সহ গোটা ডিম (Egg)? বিশেষ করে যাঁরা ওজন কমাতে চান বা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন, তাঁদের মধ্যে এই নিয়ে নানা মত রয়েছে।
ডিমের সাদা অংশকে প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস হিসেবে ধরা হয়। একটি বড় ডিমের (Egg) সাদা অংশে প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ গ্রাম প্রোটিন থাকে, অথচ ক্যালোরির পরিমাণ খুবই কম। এতে ফ্যাট বা কোলেস্টেরল থাকে না বললেই চলে। ফলে কম ক্যালোরিতে বেশি প্রোটিন পেতে চাইলে সাদা অংশ একটি ভাল বিকল্প। এই কারণেই অনেক ক্রীড়াবিদ এবং ফিটনেসপ্রেমী ডিমের সাদা অংশ বেশি খেতে পছন্দ করেন।
তবে শুধুমাত্র সাদা অংশের উপর নির্ভর করলে ডিমের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। কারণ ডিমের কুসুমে থাকে ভিটামিন এ, ডি, বি-১২, কোলিন, সেলেনিয়াম, আয়রন এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। এই উপাদানগুলি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, চোখের স্বাস্থ্য রক্ষা এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অনেকেই কুসুমে থাকা কোলেস্টেরলের কারণে তা এড়িয়ে চলেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে পরিমিত পরিমাণে ডিমের কুসুম খাওয়া সাধারণত ক্ষতিকর নয়। বরং কুসুমে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া গোটা ডিমে মোট প্রোটিনের পরিমাণও বেশি থাকে। একটি বড় ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়, যার একটি অংশ কুসুম থেকেই আসে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কুসুম সীমিত রাখতে হতে পারে। যাঁদের উচ্চ কোলেস্টেরল, হৃদ্রোগ, কিডনির সমস্যা বা ডায়াবিটিস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস নির্ধারণের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। তাই এই ধরনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মেনে চলা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও শারীরিক সমস্যা না থাকলে গোটা ডিম খাওয়াই সবচেয়ে ভাল। আর যাঁরা অতিরিক্ত প্রোটিন চান কিন্তু ক্যালোরি কম রাখতে চান, তাঁরা একটি গোটা ডিমের সঙ্গে আরও এক বা দুইটি সাদা অংশ খেতে পারেন। এতে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে, আবার প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজও শরীরে পৌঁছবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ডিমের সাদা অংশ এবং কুসুম— দু’টিরই নিজস্ব উপকারিতা রয়েছে। তাই শুধুমাত্র একটি অংশ নয়, প্রয়োজন ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে সঠিক উপায়ে ডিম খাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
