নিউজপোল ব্যুরো: এক ঘণ্টার কালবৈশাখী ঝড়ে একেবারে তছনছ হয়ে গেল কলকাতা শহর। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছিলেন শহরবাসী। কিন্তু দুপুর দুটো বাজতেই হঠাৎ করে গোটা আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শুরু হয় মরণকামড় দেওয়া ঝড় আর তুমুল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি।
মাত্র ৬০ মিনিটের এই তাণ্ডবে কলকাতার জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।শহরের একাধিক নামী রাস্তায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জওহরলাল নেহেরু রোডের বিধান মার্কেটের সামনে এবং মেয়ো রোডের দুটি আলাদা জায়গায় বিশালাকার গাছ রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়ি ভাবে ভেঙে পড়ে। এর ফলে শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। শুধু তাই নয়, রাস্তার ধারে পার্কিংয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি গাড়ির ওপর আস্ত গাছ ভেঙে পড়ায় গাড়িগুলি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনাটি ঘটেছে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে তৈরি হওয়া স্বামী বিবেকানন্দের মূর্তির সাথে। ঝড়ের তীব্র গতিবেগ ও প্রবল বৃষ্টির দাপট সামলাতে না পেরে স্বামীজির সেই মূর্তিটি ভেঙে মাটিতে পড়ে যায়। আচমকা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং রাস্তা থেকে গাছ সরিয়ে যাতায়াত স্বাভাবিক করতে কলকাতা পুরসভা ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করেছে।
মাত্র কয়েক মিনিটের দমকা হাওয়ায় যেভাবে তিলোত্তমার রাজপথ রণক্ষেত্রের চেহারা নিল, তা দেখে থমকে গেছেন নিত্যযাত্রীরা। এক লহমায় চেনা শহরের রূপ বদলে দিয়ে এই দুর্যোগ প্রমাণ করল যে প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার সামনে মানুষ আজও কতটা অসহায়।
