রামপুরহাটে দলীয় কার্যালয়েই ঝুলছে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকারের লাশ! আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুতে হাড়হিম কাণ্ড বীরভূমে

breakingnews অপরাধ আইন রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: রামপুরহাটে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাড়ির লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। একসময় বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্ব সামলানো এই প্রবীণ নেতার এমন পরিণতি ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের বাজার সংলগ্ন এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সকালে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে খবর। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। রামপুরহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। গোটা ঘটনাকে আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবেই খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনও ছিল দীর্ঘ। বাম আমল থেকেই রামপুরহাটের রাজনীতিতে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একাধিকবার বিধায়ক নির্বাচিত হন তিনি। পাঁচবারের বিধায়ক হিসেবে এলাকায় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচয় ছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া একটি কথিত সুইসাইড নোট ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু এবং নিজের ভাবমূর্তি সম্পর্কে তিনি বরাবরই সচেতন ছিলেন—এমন কথাও নোটে উল্লেখ রয়েছে বলে সূত্রের দাবি। তবে ওই নোটের সত্যতা এবং এর প্রতিটি বক্তব্য তদন্তের বিষয়। এর মধ্যেই সামনে এসেছে তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ বা TRDA-কে ঘিরে পুরনো বিতর্ক। তৃণমূল আমলে এই সংস্থার মাধ্যমে বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে এবং আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় এর চেয়ারম্যান ছিলেন বলে জানা যায়। বিজেপির তরফে TRDA-র কাজকর্ম নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগও তোলা হয়েছিল। বিভিন্ন হোটেল নির্মাণের অনুমতি থেকে শুরু করে প্ল্যান পাশ—একাধিক ক্ষেত্রে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছিলেন বিরোধীরা। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী, অনুগামী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। দলীয় কার্যালয়ে কেন গেলেন, মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল এবং উদ্ধার হওয়া নোটের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।