নিউজপোল ব্যুরো: বাংলায় শোষিত ও বঞ্চিত নারীদের অধিকার রক্ষায় এবার বিধানসভার মধ্যে গর্জে উঠলেন শুভেন্দু অধিকারী। সামাজিক কুপ্রথা আর বহুবিবাহের মরণফাঁদ থেকে অসহায় মহিলাদের মুক্ত করতে বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) চালুর পক্ষে এক জোরালো সওয়াল খাড়া করেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর এই আইনি সংস্কারের বার্তা ছড়াতেই এক নতুন আশার আলো উঁকি দিতে শুরু করেছে লাখ লাখ মুসলিম মহিলার মনে। বিয়ে থেকে শুরু করে ডিভোর্স, কিংবা ডিভোর্সের পর নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা— এবার গোটা দেশজুড়ে কি কার্যকর হতে চলেছে একটাই অভিন্ন আইন?
বছরের পর বছর ধরে চলা সামাজিক বৈষম্য আর পারিবারিক অত্যাচারের অন্ধকার ফুঁড়ে এই আইনি সংস্কার কি সত্যিই তাঁদের জীবনে এক দীর্ঘমেয়াদি স্বস্তি এনে দিতে পারবে? এই নতুন আইনের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরের বাসিন্দা নাজিরা বিবির মতো হাজারো নারী। নিজের যন্ত্রণাদায়ক অতীত শেয়ার করে তিনি স্পষ্ট জানান, দু’টি সন্তান হওয়ার পরেই তাঁর ওপর নেমে এসেছিল নির্যাতন। এখানেই শেষ নয়, প্রথাগত নিয়মের সুযোগ নিয়ে তাঁর স্বামী আবার আরেকটি বিয়েও করে নেয়! নাজিরার কথায়, “নতুন সরকারের কাছে একটাই বড় আশা, এই আইনটা যেন দ্রুত পাস হয়। পুরুষরা যাতে যখন-তখন অন্যায্যভাবে একাধিক বিয়ে করতে না পারে, তার জন্য কড়া আইনি ব্যবস্থার দরকার। সূত্রের খবর অনুযায়ী , পশ্চিমবঙ্গের ১০টি প্রধান জেলা— যেমন উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব বর্ধমান এবং বীরভূমে মুসলিম জনসংখ্যা বেশি। আর এই জেলাগুলির ঘরে ঘরে বহু নাবালিকা এবং নারী আজও নানা কুপ্রথার শিকার।
১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাওয়া, অল্প বয়সে সন্তান ধারণ এবং স্বামীর অত্যাচারের মুখে পড়ে এক জীবন ছারখার হয়ে যাওয়ার ঘটনা এখানে নিত্যদিনের। লোকলজ্জা আর আইনি জটিলতার ভয়ে অনেকেই থানার দোরগোড়া পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেন না। এই চরম অসহায়তার মাঝেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কি তবে শোষিত নারীদের ঢাল হয়ে দাঁড়াবে? বহুবিবাহ বন্ধ করা এবং ডিভোর্সের পর নারীদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই আইনি লড়াই আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
