নিউজপোল ব্যুরো: বিরোধী দলের বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করার মতো এক অতি চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ফৌজদারি মামলায় এবার বড়সড় স্বস্তি পেলেন তৃণমূলের ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। চরম আইনি উত্তেজনা আর গ্রেফতারির আশঙ্কার মাঝেই আজ শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের জরুরি বেঞ্চের নির্দেশে আরও কয়েকটা দিনের জন্য বড়সড় হাফ ছেড়ে বাঁচলেন ‘ভাইপো’।
সিআইডি বা পুলিশের হাতকড়া থেকে বাঁচতে অভিষেকের সেই জরুরি রক্ষাকবচের মেয়াদ এবার একধাক্কায় বাড়িয়ে দিল আদালত। হাইকোর্টের এই নতুন ডেডলাইন সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র কৌতূহল ও টানটান সাসপেন্স তৈরি হয়েছে।কিন্তু কেন হঠাৎ তড়িঘড়ি বসাতে হলো জজের এই জরুরি বেঞ্চ? আর কেনই বা থমকে গেল পুলিশের অল-আউট অ্যাকশন? আদালত সূত্রে খবর, মূল মামলাটির বিস্তারিত ও দীর্ঘ শুনানি এর আগে হয়েছিল বিচারপতি কৌশিক চন্দের এজলাসে। কিন্তু বর্তমান আইনি সূচি অনুযায়ী তিনি এখন সার্কিট বেঞ্চের দায়িত্বে দূরে রয়েছেন। মামলার গুরুত্ব বিচার করে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর বা দণ্ডনামূলক পদক্ষেপ নিতে পারবে না প্রশাসন। অর্থাৎ, অন্তত আগামী ১৭ জুলাই পর্যন্ত জেলের অন্ধকার লকআপে যাওয়ার ভয় থেকে পুরোপুরি আইনি ঢাল পেয়ে গেলেন অভিষেক। বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের সই জাল করার মতো এই হাই-প্রোফাইল কেলেঙ্কারির নথিপত্র এবং ফরেনসিক রিপোর্ট কিন্তু ইতিমধ্যেই তৈরি করে রেখেছে তদন্তকারীরা।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, এই মামলায় এখনও কোনও চূড়ান্ত রায় হয়নি। তাই আদালতের সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অভিযোগকে প্রমাণিত বলে ধরা যায় না। কিন্তু হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক যে আরও তীব্র হয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
