বেআইনি চিকিৎসার আড়ালে কোন মেগা স্ক্যাম? ‘ভাইপো’-র সাধের সেবাশ্রয় নিয়ে ডায়মন্ড হারবার থানায় বড়সড় মামলা রুজু!

breakingnews অপরাধ রাজনীতি রাজ্য

নিউজপোল ব্যুরো: ভাইপো’র সাধের মেগা প্রজেক্টের আড়ালে কি তবে চলছিল এক ভয়ঙ্কর ও বেআইনি চিকিৎসার মরণফাঁদ? ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে এবার সরাসরি অল-আউট অ্যাকশনে নেমে পড়ল রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর!

সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যে ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির হয়েছিল, তা নাকি স্বাস্থ্য দফতরের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়াই আয়োজন করা হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসতেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। তদন্তে যদি কোনও সরকারি আধিকারিকের গাফিলতি বা নিয়মভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ইতিমধ্যেই কয়েকজন সরকারি স্বাস্থ্য আধিকারিক তদন্তের নজরে এসেছেন বলে জানা যাচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পরিষেবা ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার অনুমতিতে এই ব্যবস্থা হয়েছিল এবং নিয়ম মেনে সব কাজ করা হয়েছিল কি না, এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

যে সমস্ত প্রভাবশালী অফিসাররা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বেআইনি কেন্দ্র চালাতে সাথ দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে সোজা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এদিকে এই অবৈধ চিকিৎসা ও ডায়াগনস্টিক কেন্দ্র পরিচালনার অভিযোগে খোদ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ডায়মন্ড হারবার থানায় এক মারাত্মক এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন রায়নগরের বাসিন্দা শুকদেব দাস। সেই বিস্ফোরক অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবারই নতুন আইন ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ (BNS)-র একাধিক কড়া ও জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। খোদ ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও (SDPO) নিজে এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তভার নিজের হাতে নিয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— সেবাশ্রয় প্রকল্পে কোনও নিয়মভঙ্গ হয়েছিল কি না, আর অভিযোগের সত্যতা কতটা? যদিও এখনও পর্যন্ত তদন্ত চলছে এবং কোনও আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা অভিযোগগুলি প্রমাণিত বলে ঘোষণা করেনি। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দোষী বলা যায় না। সেবাশ্রয়কে ঘিরে বিতর্ক এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।