বাংলার ৮২.০৫ লক্ষ মানুষের সরকারি ভাতা একধাক্কায় বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

breakingnews কলকাতা প্রযুক্তি রাজনীতি রাজ্য
নিউজপোল ব্যুরো: উৎসবের মরশুমের মুখেই রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য খুশির হাওয়া নিয়ে এল নবান্ন। ৭ই সেপ্টেম্বর সোমবার নবান্ন সভাঘরে আয়োজিত একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের সামাজিক সুরক্ষায় এক বড়সড় পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন। রাজ্যের বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, স্বামীহীনা নারী এবং বিশেষভাবে সক্ষম তথা দিব্যাঙ্গ মানুষদের জন্য চালু থাকা মাসিক ভাতার পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে যেখানে এই প্রকল্পের উপভোক্তারা প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে পেতেন, বর্তমান সরকারের নতুন উদ্যোগে এখন থেকে সেই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে করা হলো ১৫০০ টাকা। প্রতিবন্ধকতা আর পরিবারের বোঝা নয়, এবার নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বাংলার কন্যারা!”—দিব্যাঙ্গ ও বিশেষভাবে সক্ষম বোনেদের সামাজিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করতে এবার নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বর্ধিত আর্থিক ভাতা। সমাজের মূলস্রোতে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের ফিরিয়ে এনে আত্মনির্ভর করার লক্ষ্যে প্রশাসনের এই যুগান্তকারী মাস্টারস্ট্রোকে এখন খুশির হাওয়া রাজ্যজুড়ে। সরকারের এই মানবিক সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই খুশির জোয়ার এসেছে রাজ্যের প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলিতে।
নবান্ন সূত্রে প্রকাশিত অফিশিয়াল তথ্যানুযায়ী, এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৮২.০৫ লক্ষ মানুষ সরাসরি উপকৃত হতে চলেছেন। উপভোক্তাদের এই বিশাল সংখ্যার কথা মাথায় রেখে রাজ্য বাজেটেও বিপুল আর্থিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, প্রতি মাসে এই তিন শ্রেণির ভাতার জন্য সরকারের মোট ১২৩০.৮৮ কোটি টাকা খরচ হবে, যা বার্ষিক ভিত্তিতে গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৪৭৭০.৫৬ কোটি টাকায়। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে জানান যে, এই ভাতার সিংহভাগ টাকাই সরাসরি রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে এবং প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে উপভোক্তারা তাঁদের নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই টাকা পেয়ে যাবেন। মাঝপথে কোনো দালাল বা সিন্ডিকেটের হাত ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় এই অর্থ সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছাবে।
এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রের একাধিক প্রতিনিধি ও রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকরা। অনুষ্ঠান মঞ্চে বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের জন্য হুইলচেয়ার বিতরণের পাশাপাশি যোগ্য উপভোক্তাদের হাতে সরাসরি ভাতার সংশাপত্র ও উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, এই প্রকল্পের উপভোক্তারা একইসাথে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্প, যেমন— ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস yojana’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গ্রামীণ আজীবিকা মিশন’-এর সমস্ত সুযোগ-সুবিধাও পাবেন। এর পাশাপাশি অন্ত্যোদয় ও পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলির জন্য বিশ্বমানের ক্যাশলেস চিকিৎসার স্বার্থে স্বাস্থ্যবিমার আওতাও আরও বাড়াতে চলেছে নবান্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগের জমানার সমস্ত খামখেয়ালিপনা কাটিয়ে গরিব মানুষের পকেটে সরাসরি ভাতার টাকা পৌঁছে দেওয়ার এই মাস্টারস্ট্রোক আগামী দিনে বর্তমান সরকারের পক্ষে এক বড় সামাজিক হাতিয়ার হয়ে উঠবে।