নিউজপোল ব্যুরো: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো দোরগোড়ায় কড়া নাড়তেই এবার খাবারের পাত ঘিরে শুরু হলো নজিরবিহীন সামাজিক ও রাজনৈতিক তরজা! দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে আমিষ খাওয়া নিয়ে বাগেশ্বর ধাম প্রধানের বিতর্কিত মন্তব্য এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) আপত্তির পর এবার রাজ্য রাজনীতিতে আছড়ে পড়েছে প্রকাণ্ড তোলপাড়। তবে বাঙালির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও খাদ্যরসিকতায় কোনো আঁচ আসতে দিতে রাজিল নন রাজনীতিকরা। বিদেশি বা বহিরাগত কোনো সাধুর মন্তব্যের জের এড়িয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল থেকে শুরু করে দিলীপ ঘোষ ও শমীক ভট্টাচার্য— প্রত্যেকেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, বাঙালির পুজোর পাতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই।
বিতর্কের সূত্রপাত ঘটিয়ে বাগেশ্বর বাবা দাবি করেছিলেন, দুর্গাপুজোর মতো পবিত্র সময়ে যারা অষ্টমী ও নবমীতে মাংস খায়, তারা নাকি ‘পাখণ্ডী’। তাঁর এই মন্তব্য চাউর হতেই কড়া জবাব দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “বাগেশ্বর বাবা বাইরের রাজ্য থেকে এসেছেন। ওখানকার নবরাত্রির সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালির দুর্গাপুজোর ভাবাবেগ সম্পূর্ণ আলাদা। উনি জানবেন কীভাবে বাঙালি পুজোয় কী খায়? বাঙালি পুজোর সময় নিজের ইচ্ছামতো খাবে, পোশাক পরবে এবং ঘুরে বেড়াবে— এটাই আমাদের সংস্কৃতি।”
একই সুরে সুর মিলিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোয় পাঁঠাবলির প্রাচীন প্রথা রয়েছে এবং সেই বলি হওয়া মাংস মা দুর্গা বা মা কালীর পবিত্র প্রসাদ হিসেবেই গ্রহণ করা হয়। স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “যতদিন দেশ থাকবে, মা কালী পাঁঠা খাবেন এবং শিব ডমরু বাজাবেন। আমাদের এখানে নবমীতে পাঁঠার মাংস প্রসাদ, তাই এটি নিয়ে কোনো বিতর্কের প্রশ্নই ওঠে না।” অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও সাফ জানান, বাগেশ্বর বাবার মন্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। নবমীতে বাঙালিরা চিরকাল যে পাঁঠার মাংস খেয়ে এসেছে, এবারও রাজকীয়ভাবেই তা খাবে।
