নিউজপোল ব্যুরো: পুজোর আগে এবার বিতর্কের কেন্দ্রে পুজোর নামই! ‘দুর্গাপুজো’ না ‘শারদোৎসব’—এই শব্দের ব্যবহার নিয়েই বিধানসভায় সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বামপন্থীদের আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, দুর্গাপুজোর বদলে ‘শারদোৎসব’ শব্দ ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, বামপন্থীরা সনাতন ধর্মকে মূলত সাংস্কৃতিক বিষয় হিসেবে দেখতে চায়। সেই কারণেই ‘দুর্গাপুজো’ শব্দের পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহার করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এর পরেই আসে আরও কড়া মন্তব্য। শুভেন্দু বলেন, পুজো মণ্ডপ চত্বরে কোনও স্টলে যদি ‘দুর্গাপুজো’র পরিবর্তে ‘শারদোৎসব’ লেখা থাকে, সেই স্টল রাখতে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পুজোর মতো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের ক্ষেত্রেও কি এবার শব্দের ব্যবহার রাজনৈতিক বিতর্কের কারণ হয়ে উঠবে? মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছে সিপিএম। দলের নেতা ময়ূখ বিশ্বাসের দাবি, বাংলা ও বাঙালির সংস্কৃতি সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না থাকলেই এমন মন্তব্য করা সম্ভব। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘শারদোৎসব’ প্রসঙ্গ টেনে এনে পাল্টা কটাক্ষ করেন। অর্থাৎ একটি শব্দকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এবার বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রসঙ্গেও পৌঁছে গিয়েছে।
আসলে দুর্গাপুজোর সময় বিভিন্ন বামপন্থী দলের বইয়ের স্টল দেওয়ার পুরনো রীতি রয়েছে। পুজোর মাঠে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই ধরনের স্টল করা হয়। ‘শারদোৎসব’ শব্দ ব্যবহারের পিছনে ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে উৎসবের সাংস্কৃতিক দিকটিই তুলে ধরার চেষ্টা থাকে বলে বাম শিবিরের একাংশের বক্তব্য। বিগত কয়েক বছর ধরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে আরও বেশি করে যোগাযোগ তৈরি করতে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলিতে সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়ে আসছে বাম দলগুলি। সেই ধারাতেই পুজোর মণ্ডপে বইয়ের স্টল বসানোর প্রবণতাও বাড়িয়েছে তারা। ফলে ‘শারদোৎসব’ শব্দটি ব্যবহারের বিষয়টিকে ধর্মের সঙ্গে সরাসরি জুড়ে দেখার বিরোধিতা করছে বাম শিবির।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো শুরু হওয়ার আগেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে একটি শব্দ। ‘দুর্গাপুজো’ বনাম ‘শারদোৎসব’—এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও কতটা রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ায়, এখন সেদিকেই নজর।
