নিউজপোল ব্যুরো: নেপালের পর এবার ভুটানে হড়কা বান। পাহাড়ি এলাকায় হিমবাহ হ্রদ ফেটে বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলে। ভুটানের গাসা জেলার লায়া গেউগের লুঙ্গো এলাকায় ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদে (Shintaphu Lake) হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ বা গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাডের (GLOF) ঘটনা ঘটেছে। এর জেরে পাহাড় থেকে নেমে আসা বিপুল জল মো ছু নদী এবং সংলগ্ন নদীগুলিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারত ও ভুটানের যৌথ উদ্যোগে পুনাসাংচু নদীর উপর জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পুনাসাংচু নদীই বাংলা ও অসমে সঙ্কোশ নামে প্রবেশ করেছে।
ভুটানের প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাত ৮টা ১৫ মিনিট নাগাদ ব্যাপক জলের তোড়ে লায়া-জংখাগ সড়কের ২১ থেকে ২২ কিলোমিটার অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদেরও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার প্রভাব ভারতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং অসমের ধুবড়ি জেলার নদী তীরবর্তী এলাকাগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে। সংকোশ নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন। বিপর্যয় মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে উদ্ধারকারী দলকেও।
কুমারগ্রামের বিধায়ক তথা বনমন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ সমাজমাধ্যমে বার্তা দিয়ে সংকোশ নদীর আশপাশের বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, জলপ্রবাহ বাড়লে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলি প্লাবিত হতে পারে।
তবে ভুটানের জলস্তর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র তাকতসিমাখাংয়ে প্রাথমিকভাবে কোনও বিপদসংকেত সক্রিয় হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট দফতরের এক আধিকারিক। ফলে হ্রদ থেকে নির্গত জলের পরিমাণ এবং তার প্রকৃত প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে দুই দেশের প্রশাসন।
