নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থা (IT Sector) ইনফোসিস এখন তাদের কর্মীদের ‘ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স’ (Infosys Work Life Balance) বজায় রাখতে সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। কর্মঘণ্টা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অতিরিক্ত ওভারটাইম (Overtime) এড়াতে কোম্পানিটি একটি অভ্যন্তরীণ ক্যাম্পেইন (Campaign) চালু করেছে, যার আওতায় অফিস বা রিমোট যে যেভাবেই কাজ করুক, সেই সময় ট্র্যাক করা হচ্ছে মানবসম্পদ (HR) বিভাগ দ্বারা।
আরও পড়ুন: Facebook Story Income: রোজগারের নতুন রাস্তা এখন ফেসবুক স্টোরি! জানুন কীভাবে?
বিশেষ করে রিমোট ওয়ার্ক চলাকালীন, নির্ধারিত ৯.১৫ ঘণ্টার বেশি কাজ করলেই নির্দিষ্ট থ্রেশহোল্ড অতিক্রম করার জন্য কর্মীদের কাছে স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ক ইমেল পাঠানো হচ্ছে। এই ইমেলগুলিতে কর্মীদের প্রতিদিনের গড় কাজের সময়, মোট লগড ইন ঘণ্টা, ও মাসে কতদিন রিমোট কাজ করেছেন তার বিস্তারিত রিপোর্ট থাকে। সেইসঙ্গে, এতে কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়, নিয়মিত বিরতি নেওয়া, অতিরিক্ত চাপ (Infosys Work Life Balance) থাকলে রিপোর্ট করা এবং কাজের বাইরে নিজেকে “রিচার্জ” করার গুরুত্ব। এই উদ্যোগ এসেছে এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বজুড়ে বহু প্রযুক্তি পেশাজীবী অনিদ্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং অতিরিক্ত ওয়ার্কলোডের কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছেন। ৩.২৩ লক্ষেরও বেশি কর্মী নিয়ে পরিচালিত ইনফোসিসের (Infosys Work Life Balance) এই পদক্ষেপ একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। কেবল পেশাগত উৎপাদনশীলতা নয়, কর্মীদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এনআর নারায়ণ মূর্তির আগের বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি ২০২৩ সালে বলেছিলেন, ভারতের তরুণদের ‘সপ্তাহে ৭০ ঘণ্টা’ কাজ করা উচিত, দেশকে বৈশ্বিক নেতৃত্বে নিয়ে যেতে হলে নিরলস পরিশ্রমই একমাত্র পথ। তিনি কর্ম-জীবনের ভারসাম্যের ধারণাকে কার্যত নাকচ করেন। এই দ্বৈত বার্তা প্রযুক্তি জগতে এক নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।স্বাস্থ্য বনাম উৎপাদনশীলতা, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? ইনফোসিসের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ অবশ্যই কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতাকে গুরুত্ব দিয়ে এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
