নিউজ পোল ব্যুরো: ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়ের (Jagdeep Dhankhar) আকস্মিক পদত্যাগ ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক মহলে জোরদার আলোড়ন শুরু হয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশনের ঠিক শুরুতেই ৭৪ বছর বয়সি ধনখড় ‘স্বাস্থ্যগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও, এই যুক্তি বিরোধীদের কাছে গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়নি। বরং অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এ কি নিছকই স্বাস্থ্য সমস্যা, নাকি এর আড়ালে রয়েছে বড় কোনও রাজনৈতিক অঙ্ক?
আরও পড়ুন: UN: IMF-এর টাকায় জঙ্গি তহবিল? রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তোপ দাগল দিল্লি
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) সাফ বলেন, “ধনখড় সবসময়ই আরএসএস (RSS) ও বিজেপির (BJP) ঘনিষ্ঠ ছিলেন। হঠাৎ করে তার পদত্যাগ সন্দেহজনক। ‘ডাল মে কুছ কালা হ্যায়’—সরকারকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে কেন এমন হল।” তিনি আরও দাবি করেন, ধনখড় (Jagdeep Dhankhar) শারীরিকভাবে সুস্থ, এমনকি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee) তার সুস্থতার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) ধনখড়ের পদত্যাগের ১৫ ঘণ্টা পরে একটি সংক্ষিপ্ত টুইট করা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কংগ্রেসের (Congress) উপনেতা গৌরব গগৈ (Gaurav Gogoi) কটাক্ষ করে বলেন, “এই টুইট পদত্যাগের রাজনৈতিক রূপ উন্মোচন করে। সাংবিধানিক পদে এমন আচরণ দৃষ্টিকটূ।” সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) তো সরাসরিই বলেন, “যদি সত্যিই অসুস্থ হয়ে থাকেন, তবে বিজেপির (BJP) একটিও নেতা তাকে দেখতে গেল না কেন? নিশ্চয়ই ভিতরে কিছু ঘটেছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধনখড় সম্ভবত রাজ্যসভায় বিচারপতি যশবন্ত বর্মার বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রস্তাব গ্রহণ করে ফেলে সরকারের পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছিলেন। কারণ, বর্মার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হওয়ায়, বিজেপি নিজে থেকেই তার অপসারণে উদ্যোগী হতে চেয়েছিল। অথচ ধনখড়ের (Jagdeep Dhankhar) এই ‘অতি-তৎপরতা’ সরকারকে অপ্রস্তুত করে তোলে। সবমিলিয়ে, উপরাষ্ট্রপতির এই হঠাৎ বিদায়ের ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে ‘স্বাস্থ্যজনিত’ মনে হলেও, গভীরে লুকিয়ে থাকতে পারে এক জটিল রাজনৈতিক সমীকরণ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
