West Bengal Assembly Election: “দুগ্গা দুগ্গা”-য় শুরু, “ভোট যুদ্ধে” শেষ! বাংলায় দুর্গাকে ঘিরে বিজেপি বনাম তৃণমূলের সংঘাত তুঙ্গে

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: পূজোর ঢাক এখনই বাজেনি, তবে রাজনীতির (West Bengal Assembly Election) মঞ্চে ইতিমধ্যেই বেজে উঠেছে ‘দুগ্গা দুগ্গা’র দামামা। একদিকে মা দুর্গার নামে স্লোগান তুলছে বিজেপি (BJP), অন্যদিকে তৃণমূল (TMC) মাতৃভক্তির আবরণে ঢেকে দিচ্ছে তাদের সাংস্কৃতিক আধিপত্যের কৌশল। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে দেবী দুর্গা এখন কেবল বিশ্বাসের প্রতীক নন—তিনি পরিণত হয়েছেন রাজনৈতিক অস্ত্রে।

আরও পড়ুন: PM Narendra Modi: নয়া যুগের সূচনা! লন্ডনে মোদী, অপেক্ষায় ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি – এরপর ‘মিশন মালদ্বীপ’

‘রাম থেকে দুর্গা’ – বিজেপির স্লোগানের বদল?
বহুদিন ধরে “জয় শ্রী রাম”-এর স্লোগানে বাংলা দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসা বিজেপি (BJP) হঠাৎ করেই মুড পাল্টেছে। এবার শোনা যাচ্ছে,”জয় মা দুর্গা”, “জয় মা কালী”। ১৮ জুলাই দুর্গাপুরে এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) মুখেও ফুটে ওঠে এই পরিবর্তনের ছাপ। ভাষণ শুরুতেই তিনি বলেন, “জয় মা দুর্গা”— এক হাত মাতৃ আরাধনা, আরেক হাতে বাঙালি ‘অস্মিতা’র কার্ড। নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট করে দেন, “বাঙালির গর্বই আমাদের প্রাধান্য। বিজেপি বাঙালিকে সম্মান করে, অন্য কেউ নয়।” বিশ্লেষকদের মতে, বারবার ব্যর্থ নির্বাচনের পর এই রূপান্তর বিজেপির নতুন স্ট্র্যাটেজির পরিচায়ক।

‘দুর্গা অঙ্গন’ বনাম ‘ধর্মীয় আগ্রাসন’ – তৃণমূলের পাল্টা চাল
প্রধানমন্ত্রীর সভার কয়েকদিনের মধ্যেই পাল্টা মার দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ২১ জুলাই শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর পরিকল্পনা। তার কটাক্ষ “নির্বাচন এলেই এরা মা কালী, মা দুর্গার কথা মনে করে। আমরা সারাবছর সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের সঙ্গে থাকি।” তৃণমূল জানিয়েছে, এটি শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে উঠবে। দুর্গাপূজা, শিল্প, এবং লোকজ ঐতিহ্যের প্রদর্শনী থাকবে সেখানে।

সংবিধান বনাম সংস্কৃতি – বিজেপির পাল্টা অভিযোগ
তবে বিজেপি এই প্রকল্পকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে আক্রমণ করেছে। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) কড়া ভাষায়, “সরকারি টাকায় ধর্ম প্রচার? এটা মমতার হিন্দু ভোট আদায়ের কৌশল মাত্র। তিনি নিজের ধর্ম বোঝেন না, সংবিধান তো আরও দূরের কথা।” বিজেপি এটিকে মুসলিম তোষণের ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা হিসেবেও ব্যাখ্যা করছে। জগন্নাথ মন্দির (Jagannath Temple) নির্মাণের সমালোচনার জবাবে তৃণমূল এখন দুর্গার আশ্রয়ে। রাজনৈতিক দাবা খেলায় চালগুলো এখন একেবারে ক্যালকুলেটেড।

২০২৬: দেবী সামনে, লক্ষ্য গণভোটের মঞ্চ
তৃণমূলের (TMC) দাবি স্পষ্ট “দুর্গা অঙ্গন সংস্কৃতির প্রতীক। ভোটের (West Bengal Assembly Election) জন্য ভক্তি নয়, ভক্তির জন্য সংস্কৃতি।” আর বিজেপির অভিযোগ, “মমতা ভোটের জন্য হিন্দুদের ঠকাচ্ছেন।” দুই শিবিরই জানে, বাংলা মানে দুর্গা। আর দুর্গা মানে আবেগ, ভোট, বিশ্বাস। সেখানেই শুরু হয়েছে সাংস্কৃতিক দখলের এই যুদ্ধ। ধর্মীয় আবরণে রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েমের মারাত্মক খেলা।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT