নিউজ পোল ব্যুরো: ২৬ জুলাই, ভারতের জন্য শুধুই একটি দিন নয়—এটি এক আত্মত্যাগের, এক সাহসিকতার এবং এক অবিস্মরণীয় জয়ের প্রতীক। কার্গিল বিজয় দিবস (Kargil Vijay Diwas), এক এমন অধ্যায় যা ইতিহাসের পৃষ্ঠায় রক্তে লেখা ভারতের বীরত্বগাথা। এই দিন স্মরণ করায়, কেমন করে শত্রুর মজ্জায় কাঁপন ধরিয়ে ভারতের সাহসী সেনারা (Indian Army) ছিনিয়ে এনেছিল বিজয়ের তাজ।
আরও পড়ুন: Kamal Haasan: সততার রাজনীতি নিয়ে সংসদে পা কমলের,ডিএমকে জোটে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ?
সালটা ১৯৯৯। হিমালয়ের কোলে জমে থাকা বরফ তখনো গলে যায়নি, কিন্তু ভারতের সেনারা গলিয়ে দিয়েছিল শত্রুর প্রতিরক্ষা। মে মাসের এক সকালে এক সাধারণ মেষপালকের চোখে ধরা পড়ে অস্বাভাবিক নড়াচড়া। শুরু হয় তল্লাশি। সেনা পাঠানো হয় কার্গিল (Kargil Vijay Diwas) পাহাড়ে। কিন্তু হঠাৎই নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। নির্মমভাবে শহিদ হন প্রথম দলটির জওয়ানরা।
তারপর? শুরু হয় ইতিহাসের পাতা উলটে দেওয়া এক যুদ্ধ—অপারেশন বিজয়। ভারতীয় সেনার (Indian Army) কাঁধে ওঠে দেশের সম্মান রক্ষার গুরুদায়িত্ব। প্রায় ২ লক্ষ সেনা, ৩০ হাজার মাটিতে মোতায়েন, ৩২ হাজার ফুট উঁচু থেকে আকাশপথে আঘাত হানে ভারতীয় বিমানবাহিনী। ‘অপারেশন সফেদ সাগর’ নামে ইতিহাসে স্থান পায় এই যুদ্ধের বায়ুসেনা অধ্যায়। এই যুদ্ধে (Kargil Vijay Diwas) ভারতের অন্তত ৫৩৭ জন জওয়ান শহিদ হন। আহত হন ১,৩৬৩ জন। ভারতের পাল্টা প্রতিরোধে ধ্বংস হয় পাক বাহিনীর একাধিক ঘাঁটি। যদিও পাকিস্তান (Pakistan) দাবি করেছিল ৩৫৭ সৈনিকের মৃত্যু, ভারতীয় সেনার তথ্য অনুযায়ী সংখ্যাটা ছিল তিন হাজারেরও বেশি।
আর একটি চমকপ্রদ তথ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই, তৎকালীন পাক সেনাপ্রধান পারভেজ মুশারফ নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং এক রাত কাটিয়েও যান! কার্গিল যুদ্ধ শুধু সীমান্তের নয়, মনোবলেরও জয়। এ যুদ্ধ ছিল বিশ্বাসঘাতকতার জবাব, ছিল শত্রুর মিথ্যার মুখোশ উন্মোচনের দিন। আর ২৬ জুলাই আমাদের মনে করিয়ে দেয়—যখনই প্রয়োজন, তখনই ভারতের সাহসী সন্তানেরা লড়াই করতে প্রস্তুত।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
