নিউজ পোল ব্যুরো: পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার প্রতিবাদে ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ লেজেন্ডস’ (WCL 2025)-এর সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলবে না ভারত। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুবরাজ সিং, শিখর ধাওয়ানের মতো প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। শুধু তাই নয়, গোটা প্রতিযোগিতা থেকেই নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারত। বুধবার রাতে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড (ECB)-কে চিঠি দিয়ে ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন্স দলের হয়ে এই প্রতিযোগিতায় (WCL 2025) খেলছেন যুবরাজ সিংহ, শিখর ধাওয়ন, সুরেশ রায়না, ইরফান পাঠান, ইউসুফ পাঠানদের মতো প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটাররা। তাঁদের একাংশ প্রথম থেকেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে আপত্তি জানান। গ্রুপ পর্বে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আগেই বাতিল হয়েছিল এই কারণেই। এবার সেমিফাইনালেও সেই একই সিদ্ধান্তে অনড় তাঁরা।
ডব্লিউসিএল (WCL 2025) -এর নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপের শীর্ষ দল ও চতুর্থ স্থানে থাকা দলের মুখোমুখি হওয়ার কথা সেমিফাইনালে। সেই অনুযায়ী এজবাস্টনে বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল ভারত ও পাকিস্তানের। তবে ভারতীয় দলের অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাওয়ার পর আয়োজকদের কাছে আর কোনো বিকল্প রইল না। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায় সরাসরি ফাইনালে উঠে গেলেন শাহিদ আফ্রিদিরা।
একটি স্পনসরকারী সংস্থাও ভারত-পাকিস্তান সেমিফাইনালের বিরোধিতা করে নিজেদের প্রতিযোগিতা থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর ভারতীয় ক্রিকেটারদের এক বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচ জিতে এবং একটি ম্যাচ বাতিলের সুবাদে চতুর্থ স্থানে শেষ করে ভারত। অন্যদিকে চারটি ম্যাচ জিতে এবং একটি ম্যাচ বাতিল হওয়ার পর পাকিস্তান ছিল গ্রুপ তালিকার শীর্ষে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব চ্যানেলের লিংক: https://youtube.com/@thenewspole?si=VFW24JQ2V38RyKXo
এই ঘটনায় প্রবল আলোড়ন শুরু হয়েছে ক্রীড়াজগতে। অনেকেই ভারতীয় দলের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানালেও, কিছু মহলে খেলার সঙ্গে রাজনৈতিক অবস্থান ও কূটনৈতিক বার্তার সংমিশ্রণ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অন্যদিকে এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়েও শুরু হয়েছে চর্চা। বিরোধী দলের নেতারা ইতিমধ্যেই বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেটও চলতে পারে না।“ এখন দেখার এশিয়া কাপেও ক্রিকেটাররা বেঁকে বসেন কি না বা বিসিসিআই কী সিদ্ধান্ত নেয়।
