নিউজ পোল ব্যু্রো: দেশাত্মবোধক যে স্বদেশপ্রেমের গান বাঙালির মননের বিকাশে সহায়ক ভুমিকা রেখেছিল তার পুনরায় চর্চার শুভদিন আগামীকাল স্বাধীনতা দিবস (Independance Day)। রেখো মা দাসেরে মনে লিখেছেন মাইকেল – না জ্যাকসন নয় (তিনি তো বিশ্বখ্যাত হাড়ভাঙা নর্তক)- মধুসূদন দত্ত যিনি অমিত্রাক্ষর ছন্দের জন্মদাতা। আর কী কঠিন ভাষায় প্রকাশ তাঁর বাংলা (Patriotic Song)কবিতা। যেন ইংরাজি প্রবন্ধ। গানটির সুর দিয়েছেন সলিল চৌধুরী (Salil Choudhury) আর কণ্ঠ ধনঞ্জয় ভট্টাচাৰ্য। এখনও গুগল বাবার কাছে চাইলে পাওয়া যাবে।
মায়ের দেওয়া মোটা কাপড় মাথায় তুলে নেরে ভাই, ও আমার দেশের মাটি, একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি, ধন-ধান্যে পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা (দিজেন্দ্রলাল রায়) এই শিকল পরা ছল মোদের এই শিকল পরা ছল (কাজি নজরুল ইসলাম)
দেখতে দেখতে মনে পরে যাবে কত অবিস্মরণীয় কালজয়ী গানের (Patriotic Song)কথা। যেগুলি বাংলার গান, বাঙালির জাত্যাভিমানের কথা, স্বাধিকার রক্ষার, স্বাভিমানের কথা বলে। এই প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাংলা ভাষীদের ওপর অনাবশ্যক অনভিপ্রেত অত্যাচারের কথা অবশ্যই উল্লেখ্যনীয়। রাষ্ট্রীয় সংগীতের অবদানে যে ভাষার গৌরব সেই ভাষার অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান হওয়া কোন যুক্তিতে সম্ভব, মোটা দাগের রাজনীতি ছাড়া? তবে আমরা বাঙালিদের আবেগ প্রবণতার সুযোগ নিয়ে বাংলা সংস্কৃতির ওপর অত্যাচার খুব সহজেই করা যায়। তাইতো সমৃদ্ধ বাংলা গানের (patrioticsong) সম্ভার থাকা সত্ত্বেও ১৪ আর ১৫ই আগস্ট (Independance Day) সারাক্ষণ বাজছে হিন্দি গানের ফিল্মি সুর। সেটা আমাদের উদারমনস্কতার সুযোগের অপচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।
কালজয়ী বাংলা গানের (Patriotic Song) সম্ভার স্বাধীনতার পরবর্তীতে সত্তর দশকেও চর্চা ছিল। সে সময়ের বিভিন্ন ছোট ছোট রাজ্যের উথাল-পাথাল রাজনৈতিক অস্থিরতা অপরদিকে সংবাদ মাধ্যমের ওপর নেমে আসা দমন পীড়নের ঘটনা। এসমা, নাসা ইত্যাদি স্বেচ্ছাচারী আইনের যথেচ্ছ প্রয়োগ। এ সবই অনুঘটকের কাজ করেছিল। তার সঙ্গে ছিল আসাম, মনিপুর, ত্রিপুরায় আঞ্চলিক ভাষার ওপর অত্যাচার, মানুষের ওপর দমনপীড়ন। সর্বোপরি বাংলাদেশের জন্ম ও তার ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা। রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে যে অর্থনৈতিক ভূকম্প যার ফলশ্রুতিতে অনেক জমিদারের বাচ্চারাও উদ্বাস্তু হয়ে ফ্যান দাও বলে ঢুকরে কেঁদে ফিরেছে। সেই সময়ের গানের সঙ্গে প্রাণের যন্ত্রণা মিলে মিশে একাকার হয়ে যেত। কিন্তু বাঙালিকে মারি,মড়ক কিছুই মারতে পারেনি। কারণ তার শিকড় যে অনেক গভীরে। সংস্কৃত চর্চারও পীঠস্থান। বাউল গানের উদাত্ত প্রতিবাদ গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় প্রাণ পেত। তাই তো ভুপেন হাজারিকার উদাত্ত কণ্ঠের ওই মানুষ মানুষের জন্য গানের এত বর্ণচ্ছটা।
সলিল চৌধুরীর ঢেউ উঠছে কারা টুটছে কারা ছুটছে আলো ফুটছে থেকে সুকান্ত ভট্টাচার্যের তেলের শিশি ভাঙল বলে খুকুর ওপর রাগ কর-… এ তালিকা অনন্ত, অসীম। দিগন্তের পাড় যার ব্যপ্তি। হেমন্ত মুখোপাধ্যায় আছেন সেই তালিকায়, আছেন আরও অনেক কণ্ঠের জোরাল প্রতিবাদীর নক্ষত্ররা। বন্দেমাতরম, বন্দেমাতরম– সবাই জানে। অথচ তা সত্ত্বেও বাঙালি যে কেন এত ভুল করে। ভুলে যায়। মেতে ওঠে বিদেশি সিম্ফনির নেশায়। আরে ভাই, আমাদের কোরাসের কাছে জগতের যে কোন গান- গো, ওয়েনট , গান। স্রেফ চলে যাও।
কথা হচ্ছে বাংলা দেশাত্মবোধক সংগীতের (Patriotic Song) বিষয়ে। এতই সমৃদ্ধ যে গানের তালিকা এবং সেগুলির জন্মের ইতিহাস- একটা হোয়াইট পেজের সাধ্য কী তাকে মাত্রা দেয়। শুধু আবেদন। স্বাধীনতা দিবসের (Independance Day) দূরভাষ বাক্সে আরও বাংলা গান বেজে উঠল কি সময়ের ঘড়ি, থুরি সময়ের দাবি।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
