সঙ্গীতা ঘোড়ুই : কলকাতা(Kolkata) মানেই নস্টালজিয়া। ভিক্টোরিয়া, ট্রাম, কফি হাউস আর তারই সঙ্গে চিরচেনা হলুদ ট্যাক্সি(Yellow Taxi)। একসময় কলকাতার(Kolkata) রাস্তায় সর্বত্র দেখা যেত এই ট্যাক্সি। কিন্তু সময় পাল্টেছে। অ্যাপ ক্যাবের(App Cab) আর মেট্রোর(Metro) জালে জড়িয়ে পড়ে কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়ছে শহরের ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সি।
আরও পড়ুন: Shah Rukh- Deepika: শাহরুখ–দীপিকার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা
অ্যাপ ক্যাবের(App Cab) আবির্ভাবের পর থেকেই ট্যাক্সি(Taxi) যাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করে। যাত্রীদের অভিযোগ, মিটারে না যাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া, ভাঙাচোরা গাড়ি, এসির সুবিধা না থাকা এসব কারণে মানুষের ভরসা ক্রমশ নষ্ট হয়। সেই জায়গা দখল করে নেয় অ্যাপ ক্যাব। যেখানে-সেখানে বুকিং, নিশ্চিত এসি পরিষেবা আর কিছুটা আরামদায়ক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সাধারণ মানুষকে টেনে আনে।

তবুও এয়ারপোর্ট, হাওড়া(Howrah) বা শিয়ালদহ(Sealdah) স্টেশনের প্রিপেড বুথে ভরসা ছিল হলুদ ট্যাক্সির(Yellow Taxi)। দূরপাল্লার ট্রেন থেকে নেমে যাত্রীরা সহজেই এই ট্যাক্সিতে গন্তব্যে পৌঁছে যেতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রো রুটের সম্প্রসারণে সেই ভরসাও যেন উবে যাচ্ছে। ধর্মতলা-শিয়ালদহ(Esplanade-Sealdah) হয়ে এয়ারপোর্ট(Airport) পর্যন্ত মেট্রোর চাকা ঘোরায়, যাত্রীরা আরও কম খরচে, এসি সুবিধাসহ, যানজট এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছচ্ছেন।
ফলে হলুদ ট্যাক্সি স্ট্যান্ডে(Taxi Stand) এখন যাত্রী নেই বললেই চলে। চালকদের দাবি, আগে দিনে মালিককে ভাড়া, জ্বালানি বাদ দিয়েও অন্তত পাঁচ-ছ’শ টাকা থাকত হাতে। এখন সেটাও সম্ভব হচ্ছে না। শহরে বর্তমানে মেরেকেটে চার হাজার ট্যাক্সি চলছে, ডিসেম্বরের মধ্যে আরও দেড় হাজার গাড়ি ১৫ বছরের গেরোয় রাস্তায় নামা বন্ধ করবে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এআইটিইউসি অনুমোদিত ট্যাক্সি সংগঠনও জানিয়েছে, এভাবে চলতে থাকলে এই পেশা টিকবে না। সরকারকেই বিকল্প রোজগারের ব্যবস্থা করতে হবে। নইলে একদিন কলকাতার রাস্তায় আর দেখা মিলবে না শহরের আবেগমাখা ঐতিহ্য হলুদ ট্যাক্সির(Yellow Taxi)।
