Abhishek Banerjee: দল আগে, ব্যক্তি নয়! অভিষেকের হুঁশিয়ারি গোষ্ঠীকোন্দলকারীদের

কলকাতা রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের আগে দলের ভিত আরও মজবুত করতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। সেই লক্ষ্যে সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে লাগাম টানতে এবার কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক জেলা — পশ্চিম বর্ধমান ও কৃষ্ণনগরের নেতাদের উদ্দেশে তার (Abhishek Banerjee) স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে কেউ জড়ালে, প্রয়োজনে দু’পক্ষকেই সরিয়ে দেওয়া হবে।”

আরও পড়ুন: Akhilesh Yadav: নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে অখিলেশ যাদবের তোপ! ‘ভোটচুরি’ বন্ধ না হলে ভারতের রাস্তায় নামতে পারে জনতা, সতর্কবার্তা সমাজবাদী পার্টি নেতার

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবার ভোটকে ঘিরে কোনও ঝুঁকি নিতে নারাজ। কৃষ্ণনগর ও পশ্চিম বর্ধমান, দুই জেলাতেই দীর্ঘদিন ধরেই চলা অভ্যন্তরীণ বিরোধ বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সংগঠন, এবং মাঠে নেমে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বদলে নেতারা ব্যস্ত থেকেছেন পরস্পরকে কোণঠাসা করতে। এই পরিস্থিতিতে একেবারে কড়া সুরে দলীয় নেতাদের একজোট হওয়ার বার্তা দিলেন অভিষেক।

কলকাতার (Kolkata) ক্যামাক স্ট্রিটে দলের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অভিষেক (Abhishek Banerjee) বলেন, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জড়ালে দল কাউকে রেয়াত করবে না। মানুষের জন্য কাজ করতে হলে সংগঠনকে আগে মজবুত করতে হবে। তাই কাল থেকেই বিবাদ ভুলে সবাই একসঙ্গে মাঠে নামুন।”

টার্গেট ৯/৯ — বিজেপির তিন আসন ফেরত আনাই মূল লক্ষ্য

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর পশ্চিম, আসানসোল দক্ষিণ এবং কুলটি — এই তিনটি আসনে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এবার দলের লক্ষ্য ওই তিনটি আসন ফিরিয়ে আনা। পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতির কথায়,

“আমাদের কাছে কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই, তবে দল এবার স্পষ্ট লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছে — ৯টির ৯টিতেই জয় চাই।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী মলয় ঘটক, প্রদীপ মজুমদার, তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধান উপাধ্যায় সহ একাধিক জেলা নেতা।কৃষ্ণনগর জেলা তৃণমূল সভাপতি ও সাংসদ মহুয়া মৈত্রর বিরুদ্ধে জেলার একাধিক বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানালেও অভিষেকের বৈঠকে তা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হয়নি। কিন্তু বার্তা ছিল স্পষ্ট, “দলীয় বিবাদ এখন বন্ধ না হলে, সংগঠন ভেঙে পড়বে। আর সংগঠন ভেঙে পড়লে লোকসভা-বিধানসভায় বিজেপির সুবিধা হবে।”

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

নদিয়ার নেতাদের অভিষেক স্পষ্টভাবে জানান, এসআইআর ও সীমান্তবর্তী এলাকার কারণে বাড়তি দায়িত্ব রয়েছে তাদের কাঁধে। তাই আরও সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ বাড়ানোর পরামর্শও দেন তিনি। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, অর্থাৎ ছাত্র-যুব নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় করে তুলতে চান অভিষেক। তাই যুব সভাপতি থেকে ছাত্রনেতাদের, সকলকে রাস্তায় নেমে জনসংযোগ বাড়াতে বলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, বিধায়ক কল্লোল খাঁ, আলিশা খাতুন, রুকবানুর রহমান, যুব সভাপতি অয়ন দত্ত সহ একাধিক নেতা।