নিউজ পোল ব্যুরো: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Abhishek Banerjee) বৃহস্পতিবারের বক্তব্য ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে রাজনীতিতে। তবে এই বক্তব্য কেবল আর জি করের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়, বরং কেন্দ্র বনাম রাজ্যের ক্ষমতার লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতেও গুরুত্বপূর্ণ। অভিষেক আসলে দেখাতে চাইলেন, রাজ্যের প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল এবং কেন্দ্রীয় সংস্থা, বিশেষত সিবিআই(CBI), কতটা সময়ক্ষেপণ করেছে। এর মাধ্যমে তিনি একদিকে বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন, অন্যদিকে রাজ্যের প্রতি আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করেছেন।
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চ থেকে অভিষেকের (Abhishek Banerjee) বার্তা ছিল মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। আর জি কর(R G Kar) ইস্যুতে আন্দোলনে সামিল হয়ে যে বিরোধীরা রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছিলেন, তাদের প্রতি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়লেন তিনি। বিশেষত সিপিএম(CPM) এবং অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনগুলিকে আক্রমণ করে অভিষেক(Abhishek Banerjee) দেখাতে চাইলেন, এদের প্রতিবাদ নির্বাচিতভাবে পরিচালিত হয়। কেন অপরাজিতা বিল আইন হয়ে উঠছে না, তা নিয়েও তিনি কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় তুললেন।এখানেই আসল রাজনৈতিক বার্তা অভিষেক বোঝাতে চাইছেন যে, বিরোধীরা আসলে আন্দোলন নয়, বরং বিভ্রান্তি ছড়াতে বেশি আগ্রহী। তার দাবি, রাজ্য সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে, কিন্তু কেন্দ্রীয় সংস্থা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছে। এতে পরোক্ষভাবে তিনি জন সমাজেএই ধারণা তৈরি করতে চাইছেন যে, বিরোধীরা রাজনীতির স্বার্থে আন্দোলন করছে, কিন্তু রাজ্য সরকার ন্যায় প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই প্রেক্ষাপটে অভিষেকের ভাষণকে কেবল ছাত্র সংগঠনের প্রতিষ্ঠা দিবসের বক্তব্য হিসেবে দেখা যাবে না। এটি ভবিষ্যতের নির্বাচনী লড়াইয়ের প্রস্তুতিও বটে। আর জি কর কাণ্ডে জন সমাজে ক্ষোভ থাকলেও, সেই ক্ষোভকে রাজনৈতিক লাভে রূপান্তর করতে চাইছে বিরোধীরা। তৃণমূলও পাল্টা চেষ্টা করছে এই ইস্যুকে রাজ্যের দায়িত্বশীল পদক্ষেপের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরতে। ফলে আগামী দিনে আর জি কর কাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে মেরুকরণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
