Nachiketa Chakraborty: নচিকেতা – বাংলা গানের একটা নতুন ঢেউ এনে দেওয়া স্ফিংস পাখি

বিনোদন

নিউজ পোল ব্যুরো: নব্বইয়ের দশকের গোড়ার দিক। চারপাশে অস্থিরতা, বেকারত্বে ক্লান্ত যুবসমাজ। সস্তা ফতুয়া গায়ে, অযত্নের দাঁড়ি মুখে নিয়ে তারা ভিড় করছে আড্ডার আসরে। চায়ের কাপে ভেসে যাচ্ছে দীর্ঘশ্বাস, চারমিনারের ধোঁয়ায় মিশছে হতাশা। কৃষি মৃত, শিল্প নেই, সংস্কৃতি যেন ক্ষয়ে যাচ্ছে। হেমন্ত নেই, কিশোর নেই—বাংলা গানের আকাশে এক অদ্ভুত শূন্যতা। এই আঁধার সময়ে ধূমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে এক শিল্পীর। তিনি নচিকেতা চক্রবর্তী (Nachiketa Chakraborty)। তার গান বাঙালির জীবনে নিয়ে এল এক নতুন ধারার স্রোত—‘জীবনমুখী গান’। সেই গান শুধু প্রেম বা বেদনার কথা বলল না, বলল এক দিশাহীন প্রজন্মের অস্থিরতা, রাগ, প্রতিবাদ ও স্বপ্নের গল্প।

১৯৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘নীলাঞ্জনা’ দিয়ে শুরু হল এক নতুন যাত্রা। যুবকেরা একঝটকায় তাকে নিজেদের প্রতিনিধি করে নিল।‘শুধু বিষ দাও’, ‘উল্টো রাজার দেশে’, ‘তুমি কি আমায় ভালোবাসো’—এমন গানই যেন সমাজের গোপন ক্ষতকে প্রকাশ্যে টেনে আনল। বিদ্রোহী সুরে গাওয়া প্রতিটি গান হয়ে উঠল প্রতিবাদী মঞ্চ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পীও পরিণত হলেন। দাঁড়ি হল মসৃণ, সংসার গড়লেন, মেয়ের বাবা হলেন(Nachiketa Chakraborty)। গানের ভাষাও পাল্টাল—তীব্র প্রতিবাদের জায়গায় এল নরম সুর, ‘সে ছিল তখন উনিশ’ বা ‘মহানায়ক’-এর মতো আবহ। অনেক ভক্তের কাছে হয়তো এ ছিল এক ধরণের আপস, কিন্তু এও তো জীবনেরই চলমানতা।

আরও পড়ুন: Rain Update: সেপ্টেম্বরের শুরুতেই নতুন করে নিম্নচাপের জেরে টানা বৃষ্টির পূর্বাভাস, মৎস্যজীবীদেরকে সমুদ্রে যেতে নিষেধাজ্ঞা জারি

নচিকেতার উত্থানের পেছনে ছিল HMV-র পরিকল্পনা, শুভেন্দু মাইতির দৃষ্টিভঙ্গি আর সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার মধু দত্তর নিখুঁত কাজ। যেখানে মধু দত্তের হাতছোঁয়া ছিল না, সেসব গান অনেকটাই হারিয়ে গেছে সময়ের অন্ধকারে। অথচ তার কণ্ঠে জন্ম নেওয়া বিদ্রোহের সুর এখনো অটুট। বহু শিল্পী তাঁর বাংলা র‍্যাপ অনুকরণের চেষ্টা করলেও আসল জাদুটা কেবল তাঁর গলাতেই ধরা পড়ে।আজ নচিকেতা প্রবীণ। তবু এখনও তিনি মঞ্চে দাঁড়ান, গান করেন, নতুন প্রজন্মও হাততালি দেয়।

একসময় যে আগ্নেয়গিরির মতো বিস্ফোরিত হয়ে উঠেছিলেন, এখন তিনি অনেক শান্ত। হয়তো দিন আসবে যখন তাকে ঠাকুরের ভজন গাইতে শোনা যাবে, কিন্তু তবুও তাঁর নাম থাকবে বাঙালির হৃদয়ে। কারণ তিনি শুধু গায়ক নন, একসময়ের হারানো যুবকের প্রতিচ্ছবি। ষাট কেবল (Nachiketa become old) একটি সংখ্যা, শিল্পীর দীপ্তি এখনো দেশলাই কাঠির মতো জ্বলে উঠতে প্রস্তুত।