তৃণমূলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ খুলে দেওয়ার সেনাবাহিনী উদ্যোগের পক্ষ নিয়ে তৃণমূল তথা মুখ্যমন্ত্রীকে একহাত নিলেন। মেয়ো রোডের ওপর তৃণমূল দলের ভাষা আন্দোলনের মঞ্চ গতকাল খুলে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। যে পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। বস্তুত, সপ্তাহের প্রথম দিনেই রাজ্য রাজনীতির মঞ্চ সরগরম ছিল। তারই জের মঙ্গলবারও দেখা গেল। বিজেপির পক্ষ থেকে রাহুল সিনহা এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিন্দা করেছেন দ্ব্যর্থহীন ভাষায়।
কলকাতা মেয়ো রোডের উপর তৃণমূল দলের একটি ভাষা আন্দোলন মঞ্চকে ঘিরে সোমবার উত্তাল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। সেনাবাহিনী ঐ মঞ্চ খুলে দিলে মুখ্যমন্ত্রী রাগে ফেটে পড়েন। তীব্র ভাষায় কেন্দ্রীয় সেনাবাহিনীর নিন্দা করেন। মঙ্গলবার তারই জেরে বিজেপি দলের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা এক রাজনৈতিক প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করেন। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তীব্র শ্লেষের সঙ্গে রাহুল সিনহা বলেছেন।” সেনাকে কোন দল চালায় না। সেনাদের নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী যে অন্যায় করেছেন তার জন্য মুখ্যমন্ত্রিকে দেশের জনগণের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাইতে হবে।
রাহুল সিনহা বিজেপি দলের পক্ষে মঙ্গলবার অনেক কথাই বলেছেন। সেনাবাহিনীর সম্মান হানি করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী একদিকে সেনাবাহিনি,অন্যদিকে দেশের অপমান করেছেন। রাহুল বলেন, একটা প্যান্ডেল রাস্তার ওপর একবছর ধরে বানিয়ে রেখেছে। সেনারা প্যান্ডেল না ভেঙে খুলে দিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ– “প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বিজেপি কিছু করতে গেলেই পারমিশন দরকার হয়। আর ওদের প্যান্ডেল বেঁধে রাখার কি দরকার। সেনাবাহিনী কিন্তু ভদ্রতা দেখিয়েছে। প্যান্ডেল না ভেঙ্গে খুলে দিয়েছে। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণের প্রতীকী প্রতিবাদ দেখাব।”
তৃণমূলের ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে রাহুলের সাফ উত্তর-” রাজনীতিতে আন্দোলন করার অধিকার সবার আছে। কিন্তু শুধু তৃণমূলের সেই অধিকার থাকবে আর বিজেপির বেলায় থাকবে না, সেটা তো আমরা সমর্থন করতে পারিনা।”
সামনেই দুর্গাপুজো। সেখানে তৃণমূলের বড় বড় পুজোর আয়োজন। সেখানে বিজেপির কর্মসূচি কী? এই প্রশ্নের উত্তরে তৃণমূল নেতা রাহুল সিনহা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।”রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর গায়ে অনেক কাদা লেগে আছে। তাই ওদের দুর্গা পুজো নিয়ে মাতামাতি কোন কাজে লাগবে না। আর আমরা অন্তর থেকে মা দুর্গাকে স্মরণ করি।”
রাজ্য রাজনীতির এই টানাপোড়েনের মধ্যেই সেপ্টেম্বর মাস শুরু থেকেই জমজমাট বিজেপি- তৃণমূলের চির প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনীতি। এখন দেখার সেই দ্বৈরথ শেষ পর্যন্ত কোথায় গড়ায়। সেটাই রাজ্যবাসি গভীর আগ্রহের সঙ্গে লক্ষ্য রাখছে।
