উত্তর ভারতের অব্যাহত বর্ষণে শতদ্রু, বিপাশা, ইরাবতী-সহ একাধিক নদীর উথাল-পাথালে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে পঞ্জাবের গ্রামীণ প্রান্তর। ইতিমধ্যেই প্রায় দুই হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বন্যার জলে, বিপর্যস্ত লক্ষাধিক মানুষ। এই দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে আগামী মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর গুরুদাসপুরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi Punjab visit)। বিজেপির পঞ্জাব শাখার তরফে এক্স (সাবেক টুইটার) মারফত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে বন্যাকবলিত কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ।
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে পঞ্জাববাসীর দুর্দশা লাঘবে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে। ঘোষণা করা হয়েছে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প, যার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে কেন্দ্র। সূত্রানুসারে, প্লাবনের ফলে কৃষিজমিতে জমে থাকা পলি দ্রুত অপসারণ এবং বন্যার পর পশুর মৃতদেহ সরিয়ে ফেলার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে নদীর তীরবর্তী অঞ্চল থেকে অবৈধ বালিখননের অভিযোগও এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে; সেই বিষয়েও আলোচনা হতে পারে তাঁর সফরে।
বিজেপির পঞ্জাব প্রদেশ সভাপতি সুনীল জাখর জানিয়েছেন, “প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে পঞ্জাবের পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সংস্থার আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তাঁরা রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন।”
সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বন্যাজনিত কারণে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৬ জন। সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে হোসিয়ারপুর ও অমৃতসরে, যেখানে সাতজন করে বাসিন্দার প্রাণহানি ঘটেছে। পঠানকোটে মৃত্যু ছ’জনের, বর্নালায় পাঁচজনের। লুধিয়ানা ও ভটিন্ডায় মৃত্যুর সংখ্যা চারজন করে। রাজ্যের একাধিক জেলায় ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ, বিধ্বস্ত হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের সরবরাহ।
পাঞ্জাবের এই ভয়াবহ পরিস্থিতি কেবল প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, অব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি অবৈধ কার্যকলাপের ফলশ্রুতি বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। প্রধানমন্ত্রীর (Narendra Modi Punjab visit) এই সফর কার্যত কেন্দ্রীয় উদ্যোগের দিকনির্দেশক হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
