নিউজ পোল ব্যুরো: নাগরাকাটার হামলা ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য। শংকর ঘোষ (Shankar Ghosh) ও খগেন মুর্মুর (Khagen Murmu) উপর হামলার ঘটনায় এবার কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ এবং সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হল একাধিক মামলা। এই ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, অভ্যন্তরীণ কোন্দল না কি জনরোষ তা স্পষ্ট করতে চায় না শুধু রাজনীতি, চায় আদালতও।
আরও পড়ুন: North Bengal Flood: বন্যায় বিধ্বস্ত স্কুল ভবন, কম্পোজিট গ্রান্টে মাত্র ২৫ শতাংশ বরাদ্দ রাজ্যের
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) আইনজীবী অনিন্দ্য সুন্দর দাস এনআইএ তদন্ত চেয়ে আবেদন জানান। তার দাবি, দুই বিজেপি নেতার উপর আক্রমণ কোনো সাধারণ ঘটনা নয়, এর পিছনে গভীর চক্রান্ত থাকতে পারে। তাই পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের তদন্ত ছাড়া সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। আদালত মামলার আবেদন গ্রহণ করে শুনানির অনুমতিও দিয়েছে।
অন্যদিকে, এই ঘটনার এফআইআরকারী নিজেও সিবিআই তদন্ত চেয়ে হাই কোর্টে (Calcutta High Court) পৃথক মামলা দায়ের করেছেন। সেখানে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হয়েছে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিয়ে। উল্লেখ্য, প্রবল বর্ষণে নাগরাকাটায় যখন ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে যান শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শংকর ঘোষ ও মালদহ উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। আর সেই সময়ই তাদের উপর চালানো হয় হামলা। চলে ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর করা হয় গাড়ি। গুরুতর জখম হন দুই নেতাই। খগেন মুর্মুর চোখের নিচে হাড় ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় ভর্তি করা হয় শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে।
ঘটনার পর রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নিজে আক্রান্ত সাংসদকে দেখতে যান, তবে এদিন কলকাতায় ফিরেই তিনি উলটে প্রশ্ন তোলেন,“এই হামলার পেছনে বিজেপির অন্তর্দ্বন্দ্ব কাজ করছে না তো?” তার মতে, মানুষের ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক, তবে ৩০-৪০টি গাড়ির কনভয় নিয়ে এলাকা দখলের কৌশলও প্রশ্নসাপেক্ষ। এরই মাঝে পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করেছে, তল্লাশি চলছে বাকিদের খোঁজে। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তাপ এখন আদালতের চৌকাঠে পৌঁছে গেছে আর এখান থেকেই নির্ধারিত হবে এই হামলার প্রকৃত রূপরেখা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
