Flood: বন্যার ধাক্কায় বিপর্যস্ত স্কুল, ভরসা মাত্র ২৫% গ্রান্ট

শিক্ষা

নিউজ পোল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গ (North Bengal) এবং দক্ষিণবঙ্গের (South Bengal) একাধিক সরকারি স্কুল (Government Schools) ভয়াবহ বন্যা (Flood) ও অতিবৃষ্টির (Heavy Rainfall) ফলে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও স্কুল ভবনের (School Building) ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে, কোথাও বেঞ্চ-ডেস্ক (Furniture) ভেঙে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বহু স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে পাখা (Fan) নষ্ট, আবার কোথাও বিদ্যুতের বিল (Electric Bill) বকেয়া পড়ে রয়েছে। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের কারণে এই সমস্যাগুলি মেটানো যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন:BM Birla Heart Hospital : কলকাতায় পূর্ব ভারতের প্রথম ডুয়াল চেম্বার লিডলেস পেসমেকার ইমপ্লান্টেশন সফল

এই পরিস্থিতিতে প্রাথমিক (Primary), উচ্চ প্রাথমিক (Upper Primary), মাধ্যমিক (Secondary) এবং উচ্চ মাধ্যমিক (Higher Secondary) স্তরের স্কুলগুলির জন্য রাজ্য সরকার (State Government) কম্পোজ়িট গ্রান্টের (Composite Grant) মাত্র ২৫ শতাংশ বরাদ্দ করেছে। নিয়ম অনুযায়ী স্কুলগুলির প্রাপ্য ৪০ শতাংশ, কিন্তু রাজ্য দিয়েছে মাত্র ২৫ শতাংশ। সমগ্র শিক্ষা মিশন (Samagra Shiksha Mission) সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রের (Central Government) কাছে বিপুল অঙ্কের টাকা বকেয়া রয়ে গিয়েছে। শিক্ষকদের অভিযোগ, যে অল্প টাকার বরাদ্দ করা হচ্ছে তা দিয়ে প্রকৃত অর্থে কোনও পরিকাঠামো উন্নয়ন (Infrastructure Development) সম্ভব নয়। নারায়ণ দাস বাঙ্গুর স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া জানান, ‘‘আমাদের স্কুলে শুধুমাত্র বিদ্যুতের বিলই ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু সরকার থেকে যে টাকা মিলেছে তা ওই পরিমাণেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে বন্যায় হওয়া বাকি ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব কীভাবে?’’

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে স্কুলভিত্তিক ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী গ্রান্টের পরিমাণ ধার্য হলেও স্কুলগুলি পাবে তার চতুর্থাংশ। যেমন, যেখানে ১ থেকে ৩০ জন পড়ুয়া রয়েছে, তাদের ১০ হাজারের জায়গায় মিলবে ২৫০০ টাকা। ৩১ থেকে ১০০ পড়ুয়ার স্কুলে ২৫ হাজারের বদলে ৬২৫০ টাকা। ১০১ থেকে ২৫০ জনের স্কুলে ৫০ হাজারের বদলে ১২,৫০০ টাকা। ২৫১ থেকে ১০০০ জন পড়ুয়া থাকলে ৭৫ হাজারের পরিবর্তে ১৮,৭৫০ টাকা। আর ১০০০-এর বেশি ছাত্রছাত্রী বিশিষ্ট স্কুলগুলিকে ১ লক্ষ টাকার বদলে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২৫ হাজার টাকা।

প্রধান শিক্ষক সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক চন্দন মাইতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) ক্লাবগুলিকে (Clubs) কোটি কোটি টাকা অনুদান (Donation) দেওয়া হলে স্কুলগুলির প্রাপ্য টাকা কেন আটকে রাখা হচ্ছে? শিক্ষা ব্যবস্থায় (Education System) অবহেলা চলতে থাকলে অচিরেই স্কুলগুলির অবস্থা জরাজীর্ণ হয়ে পড়বে।’’ বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতার কথায়, ‘‘শিক্ষাবর্ষ প্রায় শেষের দিকে এসে সামান্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে স্কুলের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরং সরকার যদি যথাযথ অনুদান না দিতে পারে, তবে স্কুলগুলিকে ফি বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হোক।’’