নিউজ পোল ব্যুরো: শহরের কোলাহল, ব্যস্ততা আর দৈনন্দিন জীবনের চাপ থেকে কিছুটা মুক্তি পেতে অনেকেই উইকএন্ড ট্রিপ (Weekend Trip) পরিকল্পনা করেন। দক্ষিণবঙ্গে এমন বহু জায়গা আছে, যেখানে ছুটি কাটাতে পারেন। পুরুলিয়া, মন্দারমণি থেকে শুরু করে ঝাড়গ্রাম সবই সাপ্তাহিক ভ্রমণের জন্য আদর্শ। শীতের মরশুমে ঝাড়গ্রামের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেড়ে যায়। এখানকার শালের বন, ডুলুং নদী, সুবর্ণরেখা এবং শান্ত পরিবেশ ছুটির দিনের জন্য একেবারেই উপযোগী। এছাড়া ঝাড়গ্রাম(JhargamTrip) শহরের কাছে অবস্থিত প্রাচীন রাজবাড়িও দর্শনীয়।
আরও পড়ুন: Kali puja 2025 : কালীপুজোর রহস্য! জবা ফুলের পুজো ও ১০৮ জবার মালার গুরুত্ব কি জানেন?
ঝাড়গ্রাম থেকে গোপীবল্লভপুরের(Gopiballavpur) রাস্তা খুব সুন্দর। যারা লং ড্রাইভ পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই পথ সত্যিই আনন্দদায়ক। পথ ধরে দেখা মিলবে সুবর্ণরেখা নদীর (Subarnarekha River) মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের। নদীর ধারে বসে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারা এবং নদীর স্রোত শুনতে পারা এক অপূর্ব অনুভূতি। নদীর তীরে বিভিন্ন কটেজ এবং হোমস্টে (Cottage Stay, Homestay) আছে, যেখানে রাত কাটানো যায়।
ঝাড়গ্রাম থেকে গোপীবল্লভপুর ৪২ কিলোমিটার দূরে। এখানে ঘুরে দেখা যায় তপোবন, কনকদুর্গা মন্দির, চিল্কিগড়, রামেশ্বর মন্দির, রাজা দশরথ মাহাতোর বাড়ি, জামবনীর রাজা গোপীনাথ সিংহের ৩০০ বছরের প্রাচীন রাজবাড়ি এবং হাতিবাড়ি। বিশেষ করে হাতিবাড়ি (Elephant Corridor, Wildlife Spot)পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ঝাড়খন্ডের সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা এই ট্রিপকে আরও আকর্ষণীয় করে। শালের বন আর নদীর শান্ত পরিবেশ ছুটি কাটানোর জন্য একেবারে উপযুক্ত। হাতিবাড়ি এলিফ্যান্ট করিডর থাকার কারণে এখানে হাতি দেখার অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম(Jhargam) পৌঁছানোর জন্য ৬ নং জাতীয় সড়কপথ ব্যবহার করতে পারেন, যা সাড়ে চার ঘণ্টা সময় নেবে। এছাড়া হাওড়া থেকে এক্সপ্রেস বা লোকাল ট্রেনে ঝাড়গ্রাম পৌঁছানো যায় আড়াই ঘণ্টার মধ্যে। ঝাড়গ্রাম থেকে গোপীবল্লভপুর ৪২ কিলোমিটার। প্রথম দিন শহর ও গোপীবল্লভপুর ঘুরে রাত কাটান নদীর ধারে। দ্বিতীয় দিন তপোবন, রামেশ্বর মন্দির এবং হাতিবাড়ি দেখুন। রাতটি কাটান হাতিবাড়ির বনদপ্তরের বনবাংলোতে। তৃতীয় দিন ভোরে ফিরে আসুন নিজের বাড়িতে। এই ট্রিপ নিঃসন্দেহে মনকে প্রফুল্ল করবে এবং শরীর-মনকে শান্তি দেবে।
