নিউজ পোল ব্যুরো: মা এবং মাতৃত্ব—এই দুই শব্দকে আমরা প্রায়ই একটিমাত্র পরিচয়ে বেঁধে ফেলতে চাই। কিন্তু (Motherhood) কি শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা? নাকি সারাক্ষণ সন্তানের পাশে থাকা, নিখুঁত ভাবে সব দায়িত্ব পালন করা? কলকাতার রোটারি সদনে আয়োজিত একটি আলোচনায় উঠে এল এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। উপস্থিত ছিলেন মনোসামাজ কর্মী রত্নাবলী রায়, মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী-পরিচালক অপর্ণা সেন।
আরও পড়ুন:Sanskrit University: বিধানসভা ভোটের আগে শিক্ষায় পুরনো ঐতিহ্যের টান—টোলে পরীক্ষা ফিরিয়ে আনল সরকার
তাদের বক্তব্য, মাতৃত্ব কোনও স্থায়ী পরিচয় নয়। এটি এক “ভূমিকা”—যা যে কেউ নিতে পারেন, আবার না-ও নিতে পারেন। মা হওয়ার জন্য নারীর শরীর, বিয়ে বা যৌনপরিচয় গুরুত্বপূর্ণ নয়। মাতৃত্ব এমন কোনও কাঠামো নয়, যা কেবল এক ধরনের মানুষকে অনুমতি দেয়। যে নারী সন্তান দত্তক নেন, যে ব্যক্তি নারী নন কিন্তু সন্তানের যত্ন করেন, অথবা যাঁর সন্তান জন্ম দেওয়ার ইচ্ছেই নেই—সবাইকে সমাজের একই ‘মা’ সংজ্ঞার মধ্যে ফেলা অসম্ভব। দর্শকদের মধ্যেই এক মা বললেন, তার সন্তান তাকে বলে—“তুমি মায়েদের মতো নও।” অন্য এক উদাহরণে দেখা গেল, রত্নাবলীর সন্তান ছোটবেলায় বলেছিল, “তুমি মা-মা দেখতে নও।” প্রশ্ন উঠল—তাহলে কি সমাজের চোখে ‘মা’ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পোশাক, নির্দিষ্ট আচরণ লাগে?
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
অনুত্তমার মতে, সমস্যার মূল সমাজের ধারণা। যুগ যুগ ধরে সমাজ মা-কে ‘অত্যন্ত নিখুঁত’, ‘ত্যাগী’ এবং ‘সর্বক্ষণ দায়িত্বশীল’ রূপে দেখতে চেয়েছে। ফলে মা নিজের ব্যক্তিসত্তা, নিজের (Mental Health)—সব হারিয়ে ফেলেছেন। সমাজ সন্তান লালনের সমস্ত দায়িত্ব মায়ের উপর চাপিয়ে দেয়। অথচ সন্তান লালন-পালন একটি সম্পর্ক—এটি কোনও একতরফা দায়িত্ব নয়।

অপর্ণা সেন অনুষ্ঠানে বললেন, অনেক সময় সন্তানের উপর ‘নিঃশব্দ অবহেলা’ প্রয়োজন—“Benign Negligence”। সন্তানকে নিজের মতো করে বেড়ে উঠতে দেওয়া জরুরি। সব কিছুতে হস্তক্ষেপ করলে সম্পর্কের জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়।
রত্নাবলী রায় মনে করেন, মাতৃত্ব শুধু ভালোবাসা নয়; এখানে ভয়, অপরাধবোধ, সীমাহীন ক্লান্তি এবং প্রতিদিন নিজেকে নতুন করে গড়ার চেষ্টা জড়িয়ে থাকে। তার ভাষায়, “মা কোনও জৈব পরিচয় নয়, এটি এক সামাজিক এবং রাজনৈতিক যাত্রা।”
