নিউজ পোল ব্যুরো: রোস্ট, ব্যঙ্গ, কটাক্ষ এই সবই এখন নতুন প্রজন্মের বিনোদনের অঙ্গ। আর ঠিক সেই দুনিয়াতেই খুব শীঘ্রই দেখা যাবে গায়ক-অভিনেতা শিলাজিত মজুমদারকে (Shilajit Majumder)। এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তাঁকে ঘিরে কৌতুকশিল্পীরা করবেন রোস্ট, আর শিলাজিত নিজেই বসে দেখবেন নিজের উপরে হওয়া ব্যঙ্গ। তবে রোস্ট আর নিছক অপমানের পার্থক্য কোথায়—সেই স্পষ্ট কথাই জানালেন তিনি।
আরও পড়ুন:Shreya Ghoshal : আগে দেশ, অরিজিৎ-এর মতই কনসার্ট বাতিল শ্রেয়ার
শিলাজিত মজুমদার (Shilajit Majumder) বলেন, বিনোদনের মোড়কে রোস্ট হলে তা উপভোগ্য হয়। কিন্তু সমাজমাধ্যমে গোপন পরিচয়ে ট্রোল বা ব্যক্তিগত আক্রমণ তিনি বরাবরই উপেক্ষা করেছেন। তাঁর কথায়, ছোটবেলায় ভুঁড়ি থাকা, গায়ের রঙ বা চেহারা নিয়ে খোঁচা—এসব তখন সাধারণ ছিল। তাই ব্যক্তিগত মন্তব্য আর অপমানের মাঝের সীমারেখা তিনি স্পষ্টই বুঝতে শিখেছেন। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, চেহারার গড়ন নিয়ে অপমান কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বর্তমান সমাজে বুলিং ও রোস্টের সূক্ষ্ম পার্থক্য অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না। গায়ক বলেন, বন্ধুবান্ধবের মধ্যে রসিকতা চলতে পারে, কারণ সে পরিসরে সম্মতি থাকে। কিন্তু অপরিচিত কারোর প্রতি ব্যঙ্গ গ্রহণযোগ্য নয়। শিলাজিত মজুমদার (Shilajit Majumder) জানান, শিল্পীদের সম্মান না দিয়ে কেউ পারিশ্রমিক কমানোর কথা বললে তিনি রাগে কথা বলে ফেলেন। পরে অনুশোচনা হয় ঠিকই, কিন্তু অসম্মান তিনি সহ্য করেন না।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক এক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। এক নামী গায়ক, মঞ্চে এক দর্শককে—যিনি সামান্য তোতলা—অপমান করেন। শিলাজিতের কথায়, “কিছু মানুষ নিজেদের অতি বিজ্ঞ ভাবেন। জনসমক্ষে এমন অসম্মান সত্যিই অসভ্যতা।” ব্যঙ্গের মাধ্যমে সামাজিক বার্তাও দেওয়া যায়—এ কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর গান ‘হুলিগানইজ়ম’-এ তিন রাজনীতিবিদকে খোঁচা দেওয়া হয়েছিল। তাঁর মতে, “নেতামন্ত্রীদের নাম বললেই জনপ্রিয়তা আসে। আজ যদি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কিছু বলি, মানুষ দেখবে। নামটাই বিক্রিযোগ্য।” শিলাজিত মজুমদার (Shilajit Majumder) আরও মনে করেন, সমাজমাধ্যমে দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বহু মানুষ নামী ব্যক্তিকে ট্রোল করেন।
সবশেষে তাঁর মন্তব্য, ব্যঙ্গ করার জন্য সম্মতি অত্যন্ত জরুরি। নিজের কথাই উদাহরণ দিয়ে বলেন, “এই অনুষ্ঠানে আমাকে ব্যঙ্গ করার জন্য আমি পারিশ্রমিক নিচ্ছি।” তবে পরিবারের কথাও ভুললেন না। হাসতে হাসতে বললেন, “ভূগোলে ফেল করেছিলাম। বাবা সবার সামনে বলতেন। এটাও তো অপমান!” ব্যঙ্গ, রোস্ট, হাস্যরস—সবই চলতে পারে, তবে সীমারেখা মানা জরুরি—প্রাণবন্ত ভাবেই মনে করিয়ে দিলেন শিলাজিত মজুমদার (Shilajit Majumder)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
