নিউজ পোল ব্যুরো: পৃথিবীর অতি নিকটবর্তী প্রতিবেশী গ্রহ (Mars) নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই বিজ্ঞানীদের। বহু আগেই তাঁরা প্রমাণ পেয়েছেন যে লাল গ্রহে একসময় প্রবাহিত হত নদী, হ্রদ ও সাগর। মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়েও বিজ্ঞানীদের মধ্যে বেশ কিছুটা ঐকমত্য রয়েছে। কিন্তু বড় প্রশ্ন—কত দিন পর্যন্ত টিকে ছিল সেই প্রাণ? আর কবে তা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল? সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা (NASA) সেই হিসেবটাই পুরো বদলে দিয়েছে।
মহাকাশ থেকে লাল রঙে দৃশ্যমান মঙ্গল মূলত শীতল ও শুষ্ক এক গ্রহ। প্রচলিত ধারণা ছিল, প্রায় ৩৭০ থেকে ৪২০ কোটি বছর আগে মঙ্গলের জলাধারগুলি শুকিয়ে যেতে শুরু করেছিল সৌরবায়ুর (Solar Wind) প্রভাবে। সৌরবায়ু ধীরে ধীরে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে শুষে নেয়, ফলে গ্রহের জল উবে যায় এবং প্রাণের সম্ভাবনাও সম্পূর্ণ লোপ পায়। এই প্রক্রিয়ার সময়কাল নিয়েই এত দিন মতভেদ ছিল, আর সেখানেই নতুন গবেষণা এনেছে চমক। নাসার রোভার (NASA Curiosity Rover) কিউরিওসিটির পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় আবু ধাবির গবেষক দিমিত্রা অত্রির নেতৃত্বাধীন দল জানাচ্ছেন—মঙ্গলে প্রাণের অস্তিত্ব এত দ্রুত শেষ হয়নি। আগের অনুমানের তুলনায় আরও অনেক দীর্ঘ সময় প্রাণ টিকে থাকতে পারে মঙ্গলের মাটিতে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু গেইল ক্রেটার (Gale Crater)—এক বিশাল অববাহিকা, যার ব্যাস প্রায় ১৫৪ কিলোমিটার এবং যার মধ্যেই রয়েছে মাউন্ট শার্প (Mount Sharp)। কিউরিওসিটি রোভার এখানকার পাথর ও প্রাচীন বালিয়াড়ির যে তথ্য পাঠিয়েছে, তা খতিয়ে দেখে গবেষকেরা জানিয়েছেন, কোটি কোটি বছর আগে এই অঞ্চলের বালিয়াড়িগুলি ভূগর্ভস্থ জলের (Groundwater Activity) সংস্পর্শে এসে পাথরে পরিণত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: West Bengal SIR: ভোটার তালিকায় বড়সড় খাঁড়া! বাংলায় বাদ ২৭ লক্ষ নাম, নজরদারিতে বিশেষ রোল অবজার্ভার
জার্নাল অফ জিয়োফিজ়িক্যাল রিসার্চ প্ল্যানেট্স-এ প্রকাশিত গবেষণাপত্রে দাবি করা হয়েছে, নোয়াচিয়ান যুগে , যখন মঙ্গলে প্রবল বন্যা হয়েছিল, তখন গেইল ক্রেটারের নদীগুলিতে ফুঁসে ওঠা জল বালি-পলিকে জমাট বাঁধতে সাহায্য করে। ভূগর্ভস্থ জলের এই শেষ পর্যায়ের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে—প্রাণের অনুকূল পরিবেশ আগের ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দিন ছিল। এই প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে জিপসাম ও ক্যালসিয়াম সালফেট ডাইহাইড্রেটের মতো খনিজ (Minerals on Mars), যা পৃথিবীর মরুভূমিতেও পাওয়া যায়। গবেষকেরা আশাবাদী, পৃথিবীর মতোই মঙ্গলের বালিপাথরও (Sandstone Evidence) প্রাচীন ব্যাকটেরিয়ার (Ancient Microbes) চিহ্ন লুকিয়ে রাখতে পারে। ফলে মঙ্গলের অতীত জীবনের খোঁজে এই নতুন গবেষণা এক গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাতে পারে।
