নিউজ পোল ব্যুরো:প্রায় ৯০ শতাংশ এনুমারেশন ফর্মের ডিজিটাইজেশন শেষ হলেও মৃত, স্থানান্তরিত ও ডুপ্লিকেট ভোটার চিহ্নিত করার কাজে বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়েছে। এখনও পর্যন্ত সারা রাজ্যে মাত্র ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার মৃত ভোটার (Dead voter list update) চিহ্নিত হয়েছে। স্থানান্তরিত ও ডুপ্লিকেট মিলিয়ে ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম এখনও বাদই পড়েনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—এত দেরি কেন?
অভিযোগ, তিনবার করে ভোটারদের বাড়ি গিয়ে যাচাই করার পরও একাধিক জেলায় বিএলও-রা মৃত, শিফটেড ও ডুপ্লিকেট ভোটারের সংখ্যা ঠিকমতো আপলোড করছেন না। এর জেরেই নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির নিয়োগ করা স্পেশ্যাল রোল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষত কোচবিহার ও মালদহ জেলা নিয়ে তিনি সরাসরি বিরক্তি প্রকাশ করেন শনিবারের বৈঠকে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিইও মনোজ আগরওয়ালসহ ১২ জন রোল অবজার্ভার ও সিনিয়র আইএএস আধিকারিক।
বৈঠকে সুব্রত গুপ্ত সাফ বলেন—“সিইও বারবার বলছেন, তারপরও কেন মৃত, শিফটেড আর ডুপ্লিকেট ভোটারের পরিসংখ্যান আপলোড হচ্ছে না (Dead voter list update)? কার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন আপনারা? যারা নেই, যাদের পাওয়া যাচ্ছে না—এই তথ্য আপলোড করতে বাধা কোথায়?”
সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি জেলায় তিনবার ভিজিটের পরেও চূড়ান্ত তালিকা আপলোডে দেরি হচ্ছে। এমনও অভিযোগ এসেছে যে, স্থানীয় প্রশাসনের কিছু কর্তা নাকি বিএলওদের নির্দেশ দিচ্ছেন এখনই তথ্য আপলোড না করে “শেষ মুহূর্তে” করতে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্কhttp://:https://youtube.com/@newspolebangla?si=mYrQvXTBQ1lG3NFT
ফলে কমিশনের বক্তব্য—সংখ্যাটা যখন আপলোডই হচ্ছে না, তখন আসল চিত্র উঠে আসছে না। তাই অবজার্ভারের সাফ বার্তা: “কার নির্দেশের অপেক্ষায় আছেন?” শুধু এটুকুই নয়, এনুমারেশন ফর্মের ডিজিটাইজড ডেটার সঙ্গে স্বাভাবিক রিভিশন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির যে আনুপাতিক পরিবর্তন হওয়ার কথা, তার সঙ্গেও বর্তমানে উঠে আসা সংখ্যা মিলছে না—এ বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বৈঠকে। স্পেশ্যাল অবজার্ভার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—যেসব এলাকায় সন্তোষজনক কাজ হয়নি, সেসব এলাকার বিএলওদের ভূমিকাই এখন খতিয়ে দেখা হবে।
আজ, রবিবার থেকেই অবজার্ভাররা জেলা সফর শুরু করেন। প্রতিটি জেলায় জেলা শাসক তথা জেলা নির্বাচন আধিকারিক, ইআরও, রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তাঁরা। শুধু তাই নয়, ইতিমধ্যেই জমা পড়া এনুমারেশন ফর্ম এবং ডিজিটাইজেশনের স্যাম্পল চেকিংও হবে জেলা সফরের সময়। ফলে স্পষ্ট—এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপেই বড়সড় গরমিল ধরা পড়েছে, আর তা নিয়ে কমিশন এখন কড়া নজরদারি শুরু করেছে।
