নিউজ পোল ব্যুরো: বাংলার রাজভবনের (Raj Bhavan) নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বদলে হয়েছে ‘লোক ভবন’। এই নাম পালটানোকে কেন্দ্র করেই রাজ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। অভিযোগ উঠছে, রাজ্য সরকারের অনুমতি বা মতামতের তোয়াক্কা না করেই রাজভবনের নাম বদল করে দিয়েছেন রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস। ইতিমধ্যেই ভবনের মূল ফটকের নামফলক বদলে নতুন নাম ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বহুদিন ধরেই রাজনীতির অন্দরমহলে অভিযোগ ছিল— বাংলার রাজ্যপালরা নাকি রাজ্য সরকারের সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করেন। আগের রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সময়ও রাজভবন বনাম নবান্নের টানাপোড়েন একাধিকবার প্রকাশ্যে এসেছিল। আর এবার সি. ভি. আনন্দ বোস সেই একই পথে হাঁটছেন বলেই শাসকদলের দাবি।
শনিবার রাজভবনের নামবদল নিয়ে তৃণমূল মুখপাত্র ও দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তুলেছেন, “কেন শুধুমাত্র বাংলাতেই আগে নাম বদল করা হল? সারা দেশে নাম পরিবর্তনের নির্দেশ থাকলে বাংলাকেই কি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য বেছে নেওয়া হল? রাজ্যপাল কি সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে চাইছেন?”
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
অন্যদিকে, রাজ্যপালের দপ্তর থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, রাজ্যপালের অনুরোধে, তৎকালীন রাজভবনের প্রতীকী চাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্ত থেকেই ‘মানুষের রাজভবন’-এর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল। জনমুখী এই ধারণার মূল লক্ষ্য ছিল রাজভবনকে আরও উন্মুক্ত ও মানবিক করে তোলা— যেন ঐতিহাসিক এই ভবনটি ভয়ের প্রতীক না থেকে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন-আকাঙ্ক্ষার অংশ হয়ে ওঠে। গত তিন বছরে ‘জন রাজভবন’-এর উদ্যোগে নানা মানবিক ও কল্যাণমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে বলেও রাজভবন সূত্রের দাবি। সেসবের ভিত্তিতেই নাকি নতুন নাম লোক ভবন, যা মানুষের প্রতি রাজভবনের দায়বদ্ধতার প্রতীক।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Ministry of Home Affairs) সারা দেশের রাজভবনের নাম বদলের নির্দেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশ ২৫ নভেম্বর পৌঁছনোর পর শনিবার পশ্চিমবঙ্গেই প্রথম নাম পরিবর্তন কার্যকর করা হয় বলে রাজ্যপালের দপ্তরের দাবি।
