Asim Munir: ‘নিমরাজি’ সত্ত্বেও বড় পদক্ষেপ! আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ করলেন শাহবাজ সরকার

আন্তর্জাতিক

নিউজ পোল ব্যুরো: পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনীতি ও সেনাবাহিনীর ক্ষমতার ভারসাম্যে নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো আসিম মুনিরকে (Asim Munir) দেশের প্রথম চিফ অব ডিফেন্স (CDF) হিসেবে নিয়োগের মধ্য দিয়ে। দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চলছিল তাঁর সেনাপ্রধান হিসেবে তিন বছরের মেয়াদ ২৯ নভেম্বর শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কি তিনি নতুন এই সুপার–পদে বসবেন? আরও শোনা যাচ্ছিল, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shahbaz Sharif) নাকি এই সিদ্ধান্ত এড়াতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদেশ সফরে বেরিয়ে যান। কিন্তু সব জল্পনার সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার মুনিরকে (Asim Munir) আনুষ্ঠানিকভাবে সিডিএফ পদের দায়িত্ব দেওয়া হলো।

আরও পড়ুন: Mahua Moitra: ওড়িশা থেকে আসা শ্রমিকদের হেনস্তা নিয়ে সরব মহুয়া! রাজ্যকে হুঁশিয়ারি, ‘পাল্টা দিলে কী হবে?’

এর ফলে পাকিস্তানের সেনা ও প্রতিরক্ষা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগই এখন এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ মুনিরকে সমসাময়িক পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তায় পরিণত করেছে। পাকিস্তানের ইতিহাসে সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব অনেক পুরোনো সরকার পরিচালনা, নির্বাচনের রূপরেখা নির্ধারণ, এমনকি নীতিগত সিদ্ধান্তেও সেনার ছায়া বরাবরই প্রবল। তাই সেনাপ্রধান এবং সিডিএফ দুই দায়িত্ব একত্রিত হওয়ায় সামরিক শক্তি আরও দৃঢ় হবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

পাক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন, মুনির সেনাপ্রধানের দায়িত্বেও বহাল থাকবেন। ফলে তাঁর অবস্থান হবে কার্যত দেশের সর্বোচ্চ সামরিক কর্তৃত্বের কেন্দ্রে। তাতেই তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। সম্প্রতি প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য তিলক দেবাশে দাবি করেছিলেন শাহবাজ শরিফ মোটেও চান না মুনির আরও পাঁচ বছর দেশের সেনাপ্রধান থাকুন কিংবা সিডিএফ পদটি পান। তার মতে, সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে অনুপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে পাক সরকারের ভেতরের একটি সূত্র জানিয়েছে, নওয়াজ শরিফ ও তার কন্যা, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মারিয়াম নওয়াজের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর আসিম মুনিরের (Asim Munir) নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। এই দাবিটি শরিফ পরিবারের সঙ্গে মুনিরের (Asim Munir) সম্পর্ক টানাপোড়েনের গুঞ্জনকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বাস্তবতা হল মুনির এখন পাকিস্তানের সেনা–প্রতিরক্ষার অভিন্ন নিয়ন্ত্রক।

অনেকেই মনে করছেন, শাহবাজ শরিফের অস্বস্তি যাই থাকুক, এই নতুন ক্ষমতার কাঠামোর সামনে তাদের কিছু করার থাকছে না। সিডিএফ পদ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রতিরক্ষায় সমন্বয় আনা, কিন্তু বাস্তবে এটি সেনাবাহিনীর প্রভাব আরও সুসংহত করল। ফলে পাক প্রশাসন ভবিষ্যতে সামরিক চাপের মুখে আরও কোণঠাসা হতে পারে এমনই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole