Emotional Eating : খিদে নেই, তবু খাই খাই! নেপথ্যে মানসিক চাপ নাকি হরমোন আর ঘুমের অভাব

লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: খিদে নেই, তবুও বারবার কিছু না কিছু খেতে ইচ্ছে করছে— এই অভ্যাস আজ বহু মানুষের নিত্যসঙ্গী (Emotional Eating)। একটু আগে মুড়ি-চানাচুর, পরক্ষণেই মিষ্টি, তার কিছু পর আবার চিপস— এই খাই খাই প্রবণতা অনেক সময় এমন জায়গায় পৌঁছয়, যেখানে নিজের উপর আর নিয়ন্ত্রণ থাকে না (Emotional Eating)। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, বুঝি খুব খিদে পেয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা সব সময় খিদের সঙ্গে জড়িত নয়। এই বিষয়গুলির সঙ্গেই অনেক বেশি জড়িয়ে থাকে অকারণ খাওয়ার প্রবণতা (Emotional Eating)।

আরও পড়ুন : 3 Idiots 2: ১৫ বছর পর ফিরছে র‍্যাঞ্চো-ফারহান-রাজু, ২০২৬-এই শুরু ‘থ্রি ইডিয়টস ২’-এর শুটিং

মানসিক চাপ (Stress) এই ধরনের অভ্যাসের অন্যতম বড় কারণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ, ব্যক্তিগত টানাপোড়েন— এসবের জেরে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোনই অনেক সময় চিনি, তেল-মশলা বা ভাজাভুজির প্রতি আকর্ষণ বাড়িয়ে তোলে। খিদে না থাকলেও তখন মন চায় কিছু একটা খেতে। এই ধরনের খাবার সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই খেতে ইচ্ছে হলেই সঙ্গে সঙ্গে প্লেট ধরার বদলে কয়েক মিনিট হাঁটা, গভীর শ্বাস নেওয়া বা মন অন্য কাজে ব্যস্ত করাও কাজে দেয়। নারীদের ক্ষেত্রে রজোনিবৃত্তি ও তার আগের সময় অর্থাৎ পেরিমেনোপজ়েও খাওয়ার প্রবণতায় বড় বদল দেখা যায়। এই সময়ে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে। অথচ এই হরমোনই খিদে ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। তার ভারসাম্য নষ্ট হলেই কখনও অতিরিক্ত খিদে, কখনও অকারণ খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি হয়। সেই সঙ্গে মুড সুইং, উদ্বেগ ও বিরক্তিও খাওয়ার প্রবণতাকে বাড়িয়ে দিতে পারে (Emotional Eating)।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

ঘুমের অভাবও খাই খাই অভ্যাসের আরেকটি বড় উৎস। যারা নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমান না, তাদের শরীরে ঘ্রেলিন (ghrelin) ও লেপটিন (leptin) নামের দুটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোনের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। ঘ্রেলিন (ghrelin) ক্ষুধা বাড়ায়, আর লেপটিন (leptin) পেট ভরার সংকেত দেয়। ঘুম কম হলে ঘ্রেলিন (ghrelin) বেড়ে যায়, লেপটিন (leptin) কমে যায়— ফলে শরীর বারবার খাবারের দাবি তোলে। অকারণ খাওয়ার নেপথ্যে কেবল খাদ্যাভ্যাস নয়, জড়িয়ে থাকে মানসিক চাপ(Stress), হরমোনের ওঠানামা ও অপর্যাপ্ত ঘুমের মতো কারণও। তাই খাওয়ার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করতে হলে শুধু ডায়েট নয়, জীবনযাত্রার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।