নিউজ পোল ব্যুরো : শীতের দিনে গরম হট চকলেট (Hot Chocolate) হাতে থাকলে মনটা যেমন চনমনে হয়ে ওঠে, তেমনই শরীরও পায় বাড়তি আরাম। অনেকের কাছেই এটি নিছক একটি আরামদায়ক পানীয় (comfort drink), কিন্তু খাঁটি কোকো (Cocoa)-র গুণাগুণ জানলে ধারণা বদলাতে বাধ্য। কোকো থেকেই তৈরি হয় চকলেট (Chocolate), আর এতে কোকোর মাত্রা যত বেশি, ততই বাড়ে তার পুষ্টিগুণ। বিশেষ করে ডার্ক চকলেট (Dark Chocolate)-এ কোকোর পরিমাণ বেশি থাকায় তা শুধু স্বাদের জন্য নয়, স্বাস্থ্যরক্ষাতেও কার্যকর। সাম্প্রতিক সময়ে সমাজমাধ্যমে পরিচিত আমেরিকান চিকিৎসক উইলিয়াম লি (Dr William Li) ফের এই কোকোর দিকেই নজর ফেরাতে বলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা এই চিকিৎসকের মতে, সঠিক পদ্ধতিতে খাঁটি কোকো গ্রহণ করলে তা হার্ট (Heart) এবং মস্তিষ্কের (Brain) সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
আরও পড়ুন: Ramayan Movie: ২০২৬ কি প্রেমের বছর, না মহাকাব্যের? নতুন বছরে কারা বদলাবেন বলিউডের খেলা
চিকিৎসক উইলিয়াম লির বক্তব্য অনুযায়ী, কোকোর মধ্যে থাকা ফ্ল্যাভোনলস (Flavanols) এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট (Antioxidant), যা শরীরের ভেতরে প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং রক্তনালির কার্যকারিতা (Hot Chocolate) উন্নত করে। এর ফলে রক্ত সঞ্চালন ভালো হয়, হার্টের উপর চাপ কমে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ে। নিয়ম করে দিনে দুই টেবিল চামচ খাঁটি কোকো পাউডার (Cocoa Powder) গরম জলে মিশিয়ে পান করলে শরীর ও মন দু’টিই চাঙ্গা থাকে। কোকোর এই অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট গুণ মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, মনোযোগ (Focus) ও স্মৃতিশক্তি (Memory) ভালো রাখে। পাশাপাশি এটি মেজাজ ভালো রাখতেও কার্যকর, কারণ কোকো সেরোটোনিন (Serotonin) ও ডোপামিন (Dopamine)-এর মতো ‘ফিল-গুড হরমোন’ (Feel good hormone) নিঃসরণে সহায়তা করে।
শুধু হার্ট ও মস্তিষ্কই নয়, ওজন নিয়ন্ত্রণেও কোকোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, কোকো রক্তে শর্করার (Blood Sugar) ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল (Bad Cholesterol বা LDL) কমাতে কার্যকর। বিপাকহার (Metabolism) বাড়ানোর মাধ্যমে এটি শরীরের শক্তি খরচের ক্ষমতা উন্নত করে, ফলে চর্বি (Hot Chocolate) জমার প্রবণতা কমে। চিকিৎসক উইলিয়াম লির দাবি, নিয়মিত কোকো পান করলে কোমরের মেদ (Belly Fat) কমতে শুরু করে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, টানা চার সপ্তাহ কোকো পানীয় গ্রহণ করার ফলে অংশগ্রহণকারীদের ওজন কমেছে এবং বিশেষ করে কোমরের অংশে জমে থাকা চর্বি উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে। তাই শীতের দিনে চিনি আর কৃত্রিম উপাদান এড়িয়ে যদি খাঁটি কোকো দিয়ে হট চকলেট তৈরি করা যায়, তা হলে এই পানীয় শুধু স্বাদের আনন্দ নয়, সুস্থ জীবনের এক সহজ সহচরও হয়ে উঠতে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
