নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতায় মেসির গোট কনশসার্টের (Goat Concert) আয়োজক শতদ্রু দত্তকে (Shatadru Dutta) ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিধাননগর আদালতের বিচারক। শনিবার কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হওয়া শতদ্রুকে রবিবার বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
মেসির কলকাতা যাত্রা নিয়ে যে উন্মাদনা ও পরিকল্পনা ছিল সেই মাফিক কিছুই হল না। কয়েক মিনিটেই নষ্ট হয়ে গেল সবকিছুই। কিছু ভুলের কারণে দর্শকদের যাবতীয় আনন্দ, উত্তেজনা, উচ্ছ্বাস বদলে গেল দুঃখে। নেতা-মন্ত্রীদের ভিড়ের কারণে দর্শকরা যখন বুঝলেন যে, তাঁরা মেসি-কে আর দেখতে পাবেন না, ঠিক তখনই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পর মাঠের মধ্যে উড়ে আসতে থাকে জলের বোতল। তারপরেই গ্যালারি থেকে মাঠে নেমে আসেন দর্শকেরা। চলে চেয়ার ও তাঁবু ভাঙচুর। এমনকি তাঁবুতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পুলিশকেও নাকি মারধর করা হয়েছে, এমন অভিযোগ এসেছে! মেসির (Lionel Messi) অনুষ্ঠান ঘিরে যে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পরিপ্রেক্ষিতে মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং দর্শকদের টাকা ফেরত দিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:Messi Goat Concert: মেসি-শাহরুখের যুগলবন্দী থেকে বঞ্চিত দর্শকরা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শতদ্রুর বিরুদ্ধে অশান্তি সৃষ্টি, ভাঙচুর, হিংসা ছড়ানো, নাশকতামূলক কার্যকলাপ এবং জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৯২, ৩২৪(৪)(৫), ৩২৬(৫), ১৩২, ১২১(২), ৪৫ ও ৪৬ ধারায় মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্ত চলমান।

রবিবার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে শতদ্রু দত্ত দাবি করেন, ‘‘আমি কোনো সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করিনি। মাঠে যা ঘটেছে, তার দায় আমার নয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার বিরুদ্ধে একাধিক ধারা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কে দোষী? আমার অতীতে যা খ্যাতি ছিল, তা নষ্ট হয়েছে।’’ শতদ্রুর জামিনের আবেদনে সরকারি আইনজীবী পাল্টা সওয়াল করে বলেন, ‘‘মেসির সামনে কে যাবেন, কে যাবেন না—এই দায়িত্ব আয়োজকেরই।’’ এর পরেই আদালত জামিনের আবেদন খারিজ করে তাকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
গ্রেফতারির পর বিমানবন্দর থেকে আদালতে নিয়ে আসার সময় শতদ্রুর বিরুদ্ধে ‘চোর চোর’ স্লোগানও ওঠে। শনিবার রাতে বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এই ঘটনায় কলকাতার মেসি ইভেন্ট ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে, মেসির সফরকালে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এবং ঘটনাটি নিয়ে আরও তদন্ত চলছে।
