নিউজ পোল ব্যুরো: সমাজমাধ্যম এক্স (আগের টুইটার)–এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর পরিষেবা ‘গ্রোক’-এর কার্যপ্রণালি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় সরকার। অভিযোগ, এই এআই টুলের অপব্যবহার করে অনেক ব্যবহারকারী ইচ্ছেমতো অশ্লীল, আপত্তিকর ও যৌন উত্তেজক কনটেন্ট তৈরি করে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিষয়টি গুরুতর বলে মনে করে এক্স কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠিয়েছে কেন্দ্রের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act 2000) এবং ২০২১ সালের তথ্যপ্রযুক্তি বিধি (IT Rules 2021) অনুযায়ী যে দায়িত্ব ও সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন, এক্স তা যথাযথভাবে পালন করছে না। বিশেষ করে গ্রোকের মতো এআই পরিষেবার মাধ্যমে যেভাবে অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি হচ্ছে, তা সমাজের জন্য ক্ষতিকর এবং আইনবিরুদ্ধ বলেই মত কেন্দ্রের।
নোটিসে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি এই ধরনের কনটেন্ট মূলত নারীদের সম্মান ও মর্যাদায় আঘাত হানে। একই সঙ্গে এটি যৌন হেনস্তার মতো অপরাধকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘সহজলভ্য’ করে তুলছে, যা সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পক্ষেও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই প্রবণতা বন্ধ না হলে তার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সরকার।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
এই পরিস্থিতিতে এক্স কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একটি বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে জানাতে হবে, ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে কী পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, গ্রোক এআই মডেলের প্রযুক্তিগত কাঠামোও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র, যাতে কেউ আইনবিরুদ্ধ বা অশালীন কনটেন্ট তৈরি করতে না পারে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও কঠোর নীতি প্রণয়ন করা প্রয়োজন। নিয়ম ভাঙলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা ‘টার্মিনেট’ করার ব্যবস্থাও রাখতে হবে। এ ছাড়া, কোনও অশ্লীল কনটেন্ট পোস্ট করা হলে তা দ্রুত মুছে ফেলার পাশাপাশি, কারা এই ধরনের কাজ করছেন তার ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের মতে, দায়িত্বশীল এআই ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
