নিউজ পোল ব্যুরো: শিশুদের ত্বকে অনেক সময় লালচে বা গাঢ় লাল রঙের উঁচু ছোপ চোখে পড়ে, যা বাবা–মায়েদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার নাম ‘হেমানজিয়োমা’। এটি মূলত রক্তনালির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া এক ধরনের বিনাইন বা অ-ক্যানসারাস টিউমার। সাধারণত জন্মের সময় বা জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই এই চিহ্ন দেখা যায়। মুখ, মাথার ত্বক, বুক, পিঠ কিংবা ঘাড়ে হেমানজিয়োমা বেশি হলেও শরীরের যে কোনও অংশেই এটি হতে পারে।
আরও পড়ুন:Apache Helicopters: মার্কিন অ্যাপাচে নয়, দেশীয় ভরসায় প্রতিরক্ষা! বড় সিদ্ধান্ত ভারতের
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ অর্পণ সাহার মতে, হেমানজিয়োমা হওয়ার মূল কারণ হল রক্তনালির কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এই সমস্যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জন্মগত। তিনি জানান, “হেমানজিয়োমার ক্ষেত্রে সাধারণত দু’টি ধারা দেখা যায়—এক, এটি ধীরে ধীরে আকারে বড় হতে পারে; দুই, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজে থেকেই ছোট হয়ে যেতে পারে।” তবে সমস্যা হয় যখন এই লাল উঁচু অংশে আঁচড় লাগে বা আঘাত লাগে। তখন প্রচুর রক্তপাত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিষ্কার গজ বা কাপড় দিয়ে জায়গাটি চেপে ধরে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হেমানজিয়োমার বিকাশের পিছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে জেনেটিক প্রবণতা, হরমোনের প্রভাব এবং কিছু প্ল্যাসেন্টাল অস্বাভাবিকতা। তবে গর্ভাবস্থায় মায়ের কোনও খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরা বা আচরণের কারণে এই রোগ হয়—এমন কোনও প্রমাণ নেই।
লক্ষণ:
হেমানজিয়োমার প্রধান লক্ষণ হল ত্বকে উজ্জ্বল লাল, লালচে-বেগুনি বা গাঢ় রঙের দাগ। এই দাগ সমতল বা উঁচু হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে আকারে পরিবর্তিতও হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হেমানজিয়োমা ত্বকের গভীর স্তরে অবস্থান করে, ফলে বাইরে থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় না।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
চিকিৎসা:
হেমানজিয়োমার চিকিৎসা নির্ভর করে এর আকার, অবস্থান এবং জটিলতার মাত্রার উপর। অনেক ক্ষেত্রেই বিশেষ ওষুধ ৬ মাস বা তার বেশি সময় নিয়মিত খেলে এটি ধীরে ধীরে সেরে যায়। তবে চোখ, নাক, ঠোঁট বা গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কাছে হলে লেসার থেরাপি বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। যদিও হেমানজিয়োমা ক্যানসার নয়, তবু একে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
