Kali Temple Scam : ভক্তির নামে প্রতারণা? মা কালীর ‘পছন্দ’ দেখিয়ে সোনা–গয়না আদায়ের অভিযোগ কলকাতায়

breakingnews কলকাতা

নিউজ পোল ব্যুরো: খাস কলকাতার (Kolkata) বুকে ফের মা কালীকে কেন্দ্র করে বুজরুকি ও প্রতারণার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল (Kali Temple Scam)। ভক্তির আবেগকে হাতিয়ার করে কিছু অসাধু চক্র দেবী মায়ের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সোনা-গয়না, দামি বেনারসি আদায়ের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে ভিড় সামলাতে নামাতে হয় র‍্যাফ, এমনকি লাঠিচার্জের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী দাবি করছে—দেবী কালী নাকি নির্দিষ্ট কয়েকজন ভক্তের কাছে ‘নিজের পছন্দের’ সোনা, গয়না বা বেনারসি শাড়ি চাইছেন। সেই দাবি বিশ্বাস করিয়ে ভক্তদের মানসিক চাপে ফেলে কার্যত গয়না কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই বলা হচ্ছে, “মা এই গয়নাই চান” বা “এই বেনারসি না দিলে মা অসন্তুষ্ট হবেন”—এই ধরনের কথায় ভক্তদের ভয় দেখানো হচ্ছে (Kali Temple Scam)।

আরও পড়ুন : Weather Update : শীতের দাপট ফিকে, মাঘেই কি শেষ কনকনে ঠান্ডা? জানাল আবহাওয়া দফতর

এই বুজরুকি ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম হিসেবে উঠে আসছে ফেসবুক ও ইউটিউব। ভাইরাল ভিডিও (Viral Video), লাইভ সম্প্রচার ও অতিরঞ্জিত দাবির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করছেন সচেতন মহল। প্রশ্ন উঠছে, দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট বা তারাপীঠের মতো প্রাচীন ও প্রতিষ্ঠিত পীঠস্থানে তো কখনও দেবীর নামে সোনা বা বেনারসি দাবি করার প্রয়োজন পড়ে না। সেখানে ভক্তির ভিত বহুদিনের বিশ্বাসেই দৃঢ়। শনিবার রটন্তী চতুর্দশীকে কেন্দ্র করে এই গুজবের ভিড় ভয়াবহ আকার নেয়। কয়েক দিন আগেই উত্তর কলকাতার সুকিয়া স্ট্রিটে শ্যামসুন্দরী কালীকে ঘিরে একই ধরনের রটনা ছড়ানো হয়েছিল। তখনও দাবি করা হয়, ওই মন্দিরে নাকি দেবীর ‘জীবন্ত রূপ’ বিরাজমান এবং তিনি সরাসরি ভক্তদের মনের কথা শোনেন (Kali Temple Scam)।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole

এবার সেই একই গল্প ঘুরে ফিরে এসেছে মধ্য কলকাতার (Kolkata) আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকায়। ইউটিউবারদের ভিড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিজ্ঞানমনস্ক ও যুক্তিবাদী শুভচিন্তকদের প্রতিবাদে একসময় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে শ্যামসুন্দরী কালীকে কসবা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রায় তিন মাস আগে আমহার্স্ট স্ট্রিট সংলগ্ন কার্তিক বসু স্ট্রিটে একটি বাড়ি কিনে সেখানে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই ঘটনার পর ফের একবার প্রশ্ন উঠছে—ভক্তির নামে প্রতারণা রুখতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ভূমিকাই কি একমাত্র পথ?