নিউজ পোল ব্যুরো: বহুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল শেষ পর্যন্ত ভোটের ঠিক সাতদিন আগে বড় সিদ্ধান্ত নিলেন জলঙ্গির প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল (Abdur Razzak Mondal)। বুধবার রাতে নিজের কাঁটাবাড়ির বিধায়ক কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা ঘোষণা করেন (WB Election 2026)। এই ঘোষণার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। রাজ্জাকের মূল নিশানায় ছিলেন রানিনগরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমিক হোসেন। তার দাবি, সৌমিক নিজেকে ডোমকল মহকুমার প্রভাবশালী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। সেই কারণেই বিভিন্ন কেন্দ্রে এমন প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, যাঁরা জয়ী হলেও এলাকায় থাকবেন না। রাজ্জাকের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হবে এবং সেই সুযোগই নিতে চাইছেন সৌমিক।
আরও পড়ুন: Weather Update : বৃষ্টিতে স্বস্তি, তবু কমছে না গরম! ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতায় একাধিক জেলা
এদিনের বৈঠকে আব্দুর রাজ্জাক (Abdur Razzak Mondal)আরও বলেন, তাকে টিকিট না দেওয়ায় ব্যক্তিগত ক্ষোভ নেই, তবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মন্তব্যে তিনি গভীরভাবে আঘাত পেয়েছেন। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলেছেন, এই বিষয়টি তার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনে বড় দাগ ফেলেছে বলে দাবি করেন তিনি। তার প্রশ্ন, কোনও প্রমাণ বা আলোচনা ছাড়াই কেন এমন অভিযোগ করা হল? শুধু তাই নয়, রাজ্জাকের (Abdur Razzak Mondal) দাবি, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রানিনগরে দলের ফল খারাপ হওয়া সত্ত্বেও সৌমিককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে তাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি কোনও নির্বাচনী কমিটিতেও তার নাম রাখা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি (WB Election 2026)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:-https://youtube.com/@thenewspole
ডোমকল মহকুমার তিনটি আসনেই তৃণমূলের পরাজয় হবে বলেও ভবিষ্যদ্বাণী করেন রাজ্জাক (Abdur Razzak Mondal)। তার আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এই পরাজয়ের দায় তার ওপর চাপানো হতে পারে। সেই কারণেই আগেভাগেই দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান। আইপ্যাকের বিরুদ্ধেও আর্থিক চাপ তৈরির অভিযোগ তোলেন তিনি। তার কথায়, টাকা দিতে রাজি না হওয়াতেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জলঙ্গি, ডোমকল ও রানিনগরে ‘বহিরাগত প্রার্থী’ দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেন তিনি। তবে তৃণমূল ছাড়লেও রাজনীতি ছাড়ছেন না রাজ্জাক। ভবিষ্যতে অন্য দলে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও নির্বাচনের আগে কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। তার কথায়, আপাতত সাধারণ ভোটার হিসেবেই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
