নিউজ পোল ব্যুরো: কলকাতার (Kolkata) প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত আলিপুর চিড়িয়াখানা (Alipore Zoo) শহরের একমাত্র জায়গা, যেখানে প্রাকৃতিকভাবে বাদুড়ের বড়সড় ডেরা রয়েছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই এই চিড়িয়াখানাকে ঘিরেও সতর্কতা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। যদিও এখনও পর্যন্ত কলকাতা শহরে নিপা ভাইরাসে (Nipah Virus) আক্রান্ত হওয়ার কোনও খবর নেই, তবু আগাম সতর্কতায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না রাজ্য জু অথরিটি।
আরও পড়ুন : Kali Temple Scam : ভক্তির নামে প্রতারণা? মা কালীর ‘পছন্দ’ দেখিয়ে সোনা–গয়না আদায়ের অভিযোগ কলকাতায়
নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) একটি ‘জুনুটিক’ ভাইরাস, অর্থাৎ এটি পশুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত ফলখেকো বাদুড়ের মাধ্যমেই এই ভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি। আলিপুর চিড়িয়াখানা (Alipore Zoo) জুড়ে প্রচুর ফলের গাছ রয়েছে। সেই গাছের ফল খেতে নিয়মিত বাদুড়দের আনাগোনা দেখা যায়। বর্তমানে চিড়িয়াখানায় (Alipore Zoo) পর্যটনের মরশুম চলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শক এখানে আসছেন, পাশাপাশি কর্মীর সংখ্যাও যথেষ্ট বেশি। এই পরিস্থিতিতে সতর্কতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। রাজ্য জু অথরিটির মেম্বার সেক্রেটারি পি কমলাকান্ত জানিয়েছেন, চিড়িয়াখানায় বাদুড় থাকলেও অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তিনি জানান, “আমরা সম্পূর্ণ সচেতন রয়েছি। চিড়িয়াখানার কয়েকটি প্রাণীর নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কর্মী ও দর্শকদেরও সতর্ক করা হচ্ছে।” গাছ থেকে পড়ে থাকা ফল যাতে কেউ স্পর্শ না করেন, সে বিষয়ে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দর্শকদের পশুপাখির খাঁচার ভেতরে বাইরে থেকে কোনও খাবার না দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাদুড়ের কামড়ানো বা খাওয়া ফলের সংস্পর্শে অন্য ফল এলে সেখান থেকেও নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) ছড়াতে পারে। চিড়িয়াখানার বহু আবাসিক প্রাণীর খাদ্যতালিকায় ফলের ব্যবহার বেশি। সেই ফল বাইরে থেকে সরবরাহ করা হয়। এ বিষয়ে পি কমলাকান্ত জানান, প্রাণীদের জন্য যে সব ফল ও সবজি আনা হয়, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিষ্কার করা হয়। প্রথমে ভালো করে জল দিয়ে ধুয়ে নেওয়া হয়, তারপর কেটে আবাসিকদের খাদ্য হিসেবে পরিবেশন করা হয়। নিপা ভাইরাসের সম্ভাব্য ঝুঁকি মাথায় রেখে ফল ধোয়া, কাটা, সংরক্ষণ ও পরিবেশন—প্রতিটি ধাপেই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সচেতন থাকলেই আতঙ্ক নয়, নিরাপদে চিড়িয়াখানা পরিচালনা করা সম্ভব।
