নিউজ পোল ব্যুরো: অবসর ঘোষণা করলেন সাইনা নেওয়াল (Saina Nehwal)। অলিম্পিক (Olympics) পদকজয়ী প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন (Badminton) খেলোয়াড় তিনি। দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর চোট এবং শারীরিক সমস্যার সাথে লড়াই করার পর অবশেষে এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিলেন সাইনা।
আরও পড়ুন:Calcutta High Court:সরকারি জমিতে ফুটবল কিংবদন্তিদের মূর্তি? লেকটাউন বিতর্কে হস্তক্ষেপ হাই কোর্টের
ভারতের ক্রীড়া জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সাইনা নেহওয়াল ৩৫ বছর বয়সে ব্যাডমিন্টন থেকে অবসর নিলেন। একটি সাম্প্রতিক পডকাস্টে তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁর শরীর আর পেশাদার ব্যাডমিন্টনের কঠোর শারীরিক ধকল সহ্য করতে পারছে না। সাইনা জানান যে তিনি আর্থ্রাইটিস (বাতের ব্যথা) এবং হাঁটুর কার্টিলেজ ক্ষয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। এর ফলে দীর্ঘক্ষণ অনুশীলন করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে দিনে ৮-৯ ঘণ্টা অনুশীলনের প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে ১-২ ঘণ্টার বেশি অনুশীলন করলেই আমার হাঁটু ফুলে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নিজের সেরাটা দেওয়া আর সম্ভব নয়।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, তিনি তাঁর নিজের শর্তেই খেলা ছেড়েছেন। গত দুই বছর ধরেই তিনি কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে অংশ নেননি (শেষ ম্যাচ ছিল ২০২৩ সালের সিঙ্গাপুর ওপেন)। তাই আলাদা করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার প্রয়োজন তিনি বোধ করেননি, তবে বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। সাইনা নেহওয়াল কেবল একজন খেলোয়াড় নন, তিনি ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের বিপ্লবের পথিকৃৎ। তাঁর হাত ধরেই ভারতীয় মহিলারা বিশ্বমঞ্চে ব্যাডমিন্টনে আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ পদক জিতে তিনি ইতিহাস গড়েন। তিনিই প্রথম ভারতীয় ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় যিনি অলিম্পিক পদক পেয়েছেন। ২০১৫ সালে তিনি বিশ্বের ১ নম্বর (World No. 1) শাটলার হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন। ২০১০ এবং ২০১৮ সালে একক ইভেন্টে দুবার সোনা জেতেন। কেরিয়ারে ২৪টিরও বেশি আন্তর্জাতিক খেতাব জিতেছেন, যার মধ্যে ১১টি সুপার সিরিজ শিরোপা রয়েছে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী, এবং অর্জুন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এছাড়াও দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান মেজর ধ্যানচাঁদ খেলরত্ন পুরস্কারও তিনি পেয়েছেন। সাইনার এই প্রস্থান ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের একটি যুগের অবসান ঘটাল। তিনি কেবল পদক জেতেননি, বরং পিভি সিন্ধু এবং লক্ষ্য সেনের মতো পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য অনুপ্রেরণার পথ তৈরি করে দিয়ে গেছেন।
