নিউজ পোল ব্যুরো: সমাজমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরি করে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে যাওয়ার গল্প নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম মেধা নির্ভর ভিডিয়ো ঘিরে সেই আলোচনা নতুন করে তুঙ্গে। সম্প্রতি ‘বান্দর আপনা দোস্ত’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেল দাবি করেছে, এআই প্রযুক্তিতে তৈরি ভিডিয়োর মাধ্যমে তারা ২৫ থেকে ২৮ কোটি টাকা পর্যন্ত আয় করেছে। এই দাবি সামনে আসতেই নেটদুনিয়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অনেক নেটপ্রভাবী ও নতুন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এআই নির্ভর ভিডিয়োর দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন, ভেবে যে এটাই বুঝি দ্রুত সাফল্যের শর্টকাট।
আরও পড়ুন:Anandapur Fire:ভয়াবহ আগুনের পর ভয়ংকর সত্য! আনন্দপুরে মিলল ২৭টি দেহাংশ
কিন্তু প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ এই দাবিকে কার্যত উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট চ্যানেলটির মোট ভিউ সংখ্যা প্রায় ২০০ কোটির কাছাকাছি হলেও তার সিংহভাগ এসেছে শর্ট ভিডিয়ো থেকে। ইউটিউবের বর্তমান আয় কাঠামো অনুযায়ী শর্ট ভিডিয়ো থেকে যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়, তা তুলনামূলক ভাবে খুবই কম। সেই হিসেবে কয়েকশো কোটি ভিউ হলেও ২৫ বা ২৮ কোটি টাকা আয় করা প্রায় অসম্ভব বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।।বিশ্লেষকেরা এই প্রসঙ্গে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেছেন। প্রথমত, শুধুমাত্র কৃত্রিম মেধা দিয়ে তৈরি হওয়া ভিডিয়োর জন্য আলাদা করে ইউটিউব কোনও অর্থ প্রদান করে না। অর্থাৎ কনটেন্ট এআই-নির্ভর হলেই আয় বেশি হবে—এমন কোনও নিয়ম নেই। দ্বিতীয়ত, শর্ট ভিডিয়োর মনিটাইজেশন মডেল এখনও এতটা শক্তিশালী নয় যে সেখান থেকে কোটি কোটি টাকা রোজগার করা সম্ভব। ফলে এই ধরনের দাবি অনেকটাই অতিরঞ্জিত বা বিভ্রান্তিকর বলে মনে করছেন তাঁরা।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ কর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় বহু মানুষ সমাজমাধ্যমে কন্টেন্ট তৈরির দিকে ঝুঁকছেন। এআই ব্যবহার করে সহজে ভিডিয়ো বানিয়ে ইউটিউব বা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করা হচ্ছে। দর্শক মিলছে ঠিকই, কিন্তু নিয়মিত এবং বড় অঙ্কের আয় করা মোটেও সহজ নয়। তাই শুধুমাত্র আর্থিক লাভের স্বপ্ন দেখে কৃত্রিম মেধা ভিত্তিক কন্টেন্ট তৈরিতে ঝাঁপিয়ে পড়ার আগে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
