Mamata Banerjee: জ্ঞানেশকে ফের কড়া চিঠি মমতার! রবিবার দিল্লি গিয়ে সোমেই কি কমিশন দফতরে মুখ্যমন্ত্রী?

রাজনীতি রাজ্য

নিউজ পোল ব্যুরো: বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আবারও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। রবিবার তিনি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের উদ্দেশে একটি চিঠি পাঠিয়ে কমিশনের ভূমিকা ও গোটা প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি জানা গিয়েছে, সোমবার দিল্লিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (Election Commission) সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।

চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দাবি করেছেন, SIR-এর নামে যে পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, তা জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর জেরে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার সময় রাজ্যে প্রায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা মানবিকতা ও মানবাধিকার—দু’টিরই পরিপন্থী।

আরও পড়ুন: Humayun Kabir: বিস্ফোরক মন্তব্যের পর সুরবদল! ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন হুমায়ুন

বিশেষভাবে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerje) । তাঁর দাবি, দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮,১০০ জন মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ, এঁদের না রয়েছে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, না রয়েছে এমন সংবেদনশীল ও আধা-বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাজ করার আইনি ক্ষমতা। জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০ কিংবা ভোটার তালিকা সংশোধনের নিয়মে এই ধরনের পদের কোনও উল্লেখ নেই বলেও তিনি চিঠিতে জানিয়েছেন।

মমতার বক্তব্য, আইন অনুযায়ী ভোটার তালিকা সংশোধনের সম্পূর্ণ দায়িত্ব ইআরও ও এয়ারও-দের হাতেই থাকার কথা। সংবিধানের ৩২৭ ও ৩২৮ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন না করে কমিশন কোনওভাবেই সমান্তরাল কর্তৃত্ব গড়ে তুলতে পারে না। অথচ এই ধরনের ব্যবস্থা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই নেওয়া হয়েছে, যা অন্য রাজ্যগুলিতে দেখা যায়নি।

এছাড়াও ত্রিপুরা ক্যাডারের চার জন আইএএস অফিসারকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ এবং ইসিআই পোর্টালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর আশঙ্কা, এর মাধ্যমে তথ্য বিকৃত করে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। চিঠির শেষে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই পর্যবেক্ষকদের আদৌ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, নাকি তাঁদের উপস্থিতিতে ইআরও ও এয়ারও-দের কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, এই ভিন্ন আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী, এবং অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole