নিউজ পোল ব্যুরো: কোরিয়ান রূপচর্চার প্রভাব এখন বিশ্বজুড়ে। কাচের মতো উজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার আশায় নানা রকম প্রসাধনী ব্যবহার করছেন অনেকেই। কিন্তু জানেন কি, এই রুটিনের একেবারে শেষ ধাপ ‘স্লাগিং’— যেখানে দামি প্রোডাক্টের বদলে ব্যবহার করা যেতে পারে আমাদের ঘরোয়া উপাদান ঘি (Ghee)? বিশেষ করে শীতকালে শুষ্ক ও ফাটা ঠোঁটের যত্নে ঘি হতে পারে দারুণ কার্যকর।
আরও পড়ুন: Kolkata Book Fair: আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হল দীপঙ্কর রায়ের গল্পসংকলন “কথা থেকে কাহিনি”
কোরিয়ান স্কিন কেয়ার রুটিনে ‘স্লাগিং’ হল রাতের শেষ ধাপ। এই পর্যায়ে পেট্রোলিয়াম-ভিত্তিক কোনও উপাদান ত্বকের উপর পুরু স্তরে মাখা হয়, যাতে ত্বকের আর্দ্রতা বাইরে বেরোতে না পারে। এর ফলে সারারাত ধরে ত্বক হাইড্রেট থাকে এবং বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত স্তর মেরামতের সুযোগ পায়। ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়ায় এই পদ্ধতি বিশেষ উপকারী বলে মনে করেন রূপচর্চা বিশেষজ্ঞরা।
তবে অনেকেরই পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করতে অস্বস্তি হয়। তেলচিটে ভাব বা কেমিক্যালের ভয় থাকলে, সহজ বিকল্প হতে পারে দেশি ঘি (Ghee)। আধুনিক কোরিয়ান রূপচর্চার সঙ্গে এই ভাবেই মিলিয়ে নেওয়া যায় আমাদের চিরাচরিত ঘরোয়া উপকরণকে।
শরীরের অন্যান্য অংশের মতো ঠোঁটে তেল নিঃসরণকারী গ্রন্থি নেই। তাই ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা বা বারবার ঠোঁট চাটার ফলে ঠোঁট দ্রুত শুকিয়ে যায়। এর ফলেই দেখা দেয় ফাটল, জ্বালা এবং ব্যথা। এই জায়গাতেই ঘির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘি মূলত চর্বিজাত উপাদান, যা ঠোঁটের উপর একটি সুরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করে। এই আবরণ ঠোঁটের ভিতরের জল ধরে রাখে এবং আর্দ্রতা বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়।
ঘিয়ের মধ্যে থাকা ফ্যাটি অ্যাসিড ক্ষতিগ্রস্ত কোষের মাঝে প্রবেশ করে ত্বকের স্তর মেরামত করতে সাহায্য করে। ফলে ঠোঁট শুধু উপর থেকে নরম হয় না, ভিতর থেকেও সুস্থ হতে শুরু করে। শীতে যে ছোট ছোট ফাটল তৈরি হয়, সেগুলিও ধীরে ধীরে সেরে ওঠে।
ঘি মাখার পদ্ধতিও খুব সহজ। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রথমে অল্প জল ঠোঁটে বুলিয়ে নিন। তার পর পরিষ্কার আঙুল দিয়ে সামান্য ঘি ঠোঁটের উপর লাগান। বেশি ঘষাঘষির দরকার নেই। জলের আর্দ্রতাকে আটকে রাখবে ঘির এই স্তর। নিয়মিত কয়েক রাত ব্যবহার করলেই ঠোঁটের নরমভাব চোখে পড়বে।
দামি লিপ বাম বা ট্রিটমেন্টের বদলে তাই শীতের রাতে ভরসা রাখতে পারেন ঘির উপর— ঘরোয়া, সহজ এবং কার্যকর সমাধান।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
