Kidney Disease: লিভারের পর কিডনিতেও মেদ! ‘ফ্যাটি কিডনি’ কতটা বিপজ্জনক, কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন

স্বাস্থ্য

 

নিউজ পোল ব্যুরো: লিভারে মেদ জমার কথা অনেকেই জানেন। কিন্তু জানেন কি, একই ভাবে কিডনিতেও (Kidney) চর্বি জমতে পারে? এই অবস্থাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা হয় ‘ফ্যাটি কিডনি’। সচেতনতার অভাবে এই রোগ অনেক সময় চুপিসারে বাড়তে থাকে। নিয়মিত হার্ট পরীক্ষা বা রক্তে সুগার মাপলেও কিডনির স্বাস্থ্য পরীক্ষা অনেকেই করান না— যত দিন না সমস্যা প্রকট হচ্ছে। অথচ সাম্প্রতিক কালে কিডনির নানা অসুখ, বিশেষ করে কমবয়সিদের মধ্যেও, উদ্বেগ বাড়াচ্ছে চিকিৎসকদের।

আরও পড়ুন: Madhumita SarcarI বিয়ের পর মধুমিতা ছাড়ছেন ‘ভোলেবাবা পার করেগা’ সিরিয়াল! নীল কী থাকবেন?

কিডনির ভিতরে একটি বিশেষ অংশ রয়েছে, যাকে রেনাল সাইনাস বলা হয়। এই অংশ দিয়েই অসংখ্য সূক্ষ্ম ধমনী-শিরা ও রক্তজালিকা প্রবাহিত হয়। এখান থেকেই রক্ত পরিশোধিত হয়ে বর্জ্য পদার্থ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এই অংশে ও তার আশপাশে অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করলে রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হয়। কিডনির ভিতরে চাপ বাড়ে, সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়। এর ফলে প্রস্রাবে জ্বালা বা অস্বস্তি, ঘন ঘন সংক্রমণ, কিডনিতে পাথর, এমনকি রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে? যাঁদের স্থূলত্ব রয়েছে, দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবিটিস আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস— অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টি পানীয়— রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘমেয়াদে তা কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। ছোটবেলা থেকেই যাঁদের ওজন নিয়ন্ত্রণে নেই, তাঁদের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

ফ্যাটি কিডনির লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট নয়। তবে প্রস্রাবের পরিমাণ বা রঙে পরিবর্তন, পিঠের নিচের অংশে ব্যথা, শরীর ফুলে যাওয়া, অস্বাভাবিক ক্লান্তি— এই উপসর্গগুলি অবহেলা করা ঠিক নয়। দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এই রোগ থেকে বাঁচার মূল চাবিকাঠি জীবনযাপনের পরিবর্তন। নিয়মিত হাঁটা, দৌড়, সাঁতার বা যোগব্যায়াম কিডনির সুস্থতায় সাহায্য করে। খাদ্যতালিকা থেকে ভাজাভুজি, ফাস্ট ফুড ও অতিরিক্ত লবণ বাদ দেওয়া উচিত। পর্যাপ্ত জল পানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় অন্তর রক্তের সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন (BUN) এবং সাধারণ ইউরিন টেস্ট করিয়ে রাখা ভালো।

মনে রাখতে হবে, কিডনি (Kidney) শরীরের নীরব পরিশোধন যন্ত্র। সমস্যা শুরু হওয়ার আগেই সচেতন হলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন— এই দুই-ই হোক অভ্যাস।

নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole