নিউজ পোল ব্যুরো: সোনার দাম (Gold Price) এখন রীতিমতো আকাশছোঁয়া। এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বাড়িতে গয়না রেখে স্বস্তিতে থাকতে পারেন না। ফলে নিরাপত্তার কথা ভেবে ভরসা করেন ব্যাঙ্কের লকারের (Bank Locker)। কিন্তু প্রশ্ন হল, ব্যাঙ্ক লকার (Bank Locker) কি সত্যিই সম্পূর্ণ নিরাপদ? লকারে রাখা গয়না হারিয়ে গেলে বা চুরি, অগ্নিকাণ্ড কিংবা কর্মচারীর জালিয়াতির মতো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাঙ্ক কতটা দায় নেয়? এই বিষয়ে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI Guidelines) নিয়ম জানা অত্যন্ত জরুরি।
আরও পড়ুন : Yuva Sathi Scheme : বেসরকারি চাকরিজীবীরা কি পাবেন যুবসাথীর বেকার ভাতা? স্পষ্ট করল রাজ্য সরকার
RBI–র বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, লকারে (Bank Locker) রাখা সামগ্রী হারালে ব্যাঙ্কের দায় সীমাবদ্ধ। গ্রাহক বছরে যে পরিমাণ লকার ভাড়া দেন, তার সর্বোচ্চ ১০০ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য ব্যাঙ্ক। অর্থাৎ বছরে যদি ৩,০০০ টাকা ভাড়া দেওয়া হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ মিলতে পারে। তবে এই দায় শুধুমাত্র নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যেমন ব্যাঙ্কের অবহেলা, আগুন, চুরি, ডাকাতি বা কর্মীদের প্রতারণা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গ্রাহকের নিজস্ব ত্রুটির ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক দায় নাও নিতে পারে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রমাণ করা—লকারে কী ছিল এবং ব্যাঙ্কের গাফিলতি কতটা ছিল। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ গ্রাহক লকারের ক্ষতিপূরণের সীমা ও গয়নার প্রকৃত বাজারমূল্যের (Market Value) ফারাক বুঝতে পারেন না। আজকের দিনে একটি সাধারণ পরিবারের লকারেই ১০ থেকে ২০ লক্ষ টাকার গয়না থাকা অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ সেই তুলনায় অনেক কম হতে পারে। ফলে পুরো অর্থ ফিরে পেতে আইনি লড়াইয়ের প্রয়োজন পড়তে পারে।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্যাঙ্ক লকার এখনও তুলনামূলকভাবে নিরাপদ জায়গা হলেও এটি পূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা দেয় না। তাই লকারের পাশাপাশি আলাদা গয়নার বিমা (Jewellery Insurance) করানো বুদ্ধিমানের কাজ। অনেক সময় হোম ইনশিওরেন্স (Home Insurance) থাকলেও তাতে গয়না স্বয়ংক্রিয়ভাবে কভার হয় না, আলাদা করে উল্লেখ করতে হয়। সাধারণত গয়নার বিমার খরচ বছরে মোট মূল্যের ০.৫ থেকে ১.২ শতাংশের মধ্যে থাকে, যা তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বা উচ্চমূল্যের গয়নার ক্ষেত্রে দ্বৈত সুরক্ষা—ব্যাঙ্ক লকার (Bank Locker) ও বিমা—সবচেয়ে কার্যকর উপায়। কারণ আইনের চোখে আবেগের মূল্য নেই, কেবল নথি ও প্রমাণই শেষ কথা।
