নিউজ পোল ব্যুরো: দেখতে দেখতে দেড়শোরও বেশি বসন্ত পার করেছে কলকাতার ট্রাম (Kolkata Tram)। একসময় শহরের প্রধান গণপরিবহন হলেও আজ তা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্যস্ত। ১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতার (Kolkata) রাস্তায় প্রথম চাকা গড়ায় এই ঐতিহ্যবাহী যানটির। সেই থেকে বহু পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছে শহরের ট্রাম (Kolkata Tram)। এবার তার ১৫৩তম জন্মদিনে নস্টালজিয়া আর আবেগে ভাসছে তিলোত্তমা। আজ শহরে কার্যত মাত্র দুটি রুটে ট্রাম চলাচল করছে—শ্যামবাজার থেকে ধর্মতলা এবং গড়িয়াহাট থেকে ধর্মতলা। তাও নিয়মিত নয়। অথচ একসময় ৩৭টি রুটে ট্রাম চলত (Kolkata Tram)। বর্তমানে ট্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, বিষয়টি আদালতেও বিচারাধীন। তবুও ট্রামপ্রেমীরা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
১৫৩তম জন্মদিন উপলক্ষে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার প্রায় একশো বছরের পুরনো কাঠের বডির একটি ঐতিহাসিক ট্রাম আজ বিশেষভাবে সাজিয়ে শহরের রাস্তায় নামানো হয়েছে (Kolkata Tram)। নোনাপুকুর ট্রাম ডিপোতে সংরক্ষিত এই ট্রামটি সকাল সাড়ে ৯টায় গড়িয়াহাট ডিপো থেকে রওনা হয়ে ধর্মতলা হয়ে শ্যামবাজার পর্যন্ত যাবে। ট্রামের ভিতরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্মৃতিচারণের আয়োজন রাখা হয়েছে। কলকাতার ট্রাম (Kolkata Tram) মানেই শহরের নস্টালজিয়া—প্রেম, গল্প আর অসংখ্য স্মৃতির সাক্ষী এই যান। কিন্তু দ্রুতগতির শহরের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্য। ট্রামপ্রেমী সংগঠন ক্যালকাটা ট্রাম ইউজার্স অ্যাসোসিয়েশন এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংগঠনের সদস্যদের মতে, দূষণ কমাতে ট্রামের মতো পরিবেশবান্ধব যান আরও বেশি প্রয়োজন ছিল (Kolkata Tram)।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক: https://youtube.com/@thenewspole
বর্তমানে শহরে লক্ষ লক্ষ গাড়ির চাপে দূষণের মাত্রা বাড়ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালেই নতুন করে প্রায় ১ লক্ষের বেশি গাড়ি নথিভুক্ত হয়েছে এবং মোট গাড়ির সংখ্যা ২৩ লক্ষ ছাড়িয়েছে। বিশ্বের প্রায় ৪০০টি শহরে এখনও ট্রাম চলছে, অনেক শহর আবার নতুন করে ট্রাম পরিষেবা চালু করছে। সময়ের সঙ্গে ট্রামের চেহারা বদলেছে—ঘোড়ায় টানা ট্রাম থেকে বিদ্যুৎচালিত ট্রাম, এমনকি এসি ট্রামও এসেছে। তবুও কলকাতার ট্রাম (Kolkata Tram) যেন অতীতের এক মায়াবী স্মৃতি হয়ে পড়েছে। তবু শহরবাসীর আশা, ঐতিহ্যের এই প্রতীক আবারও নতুনভাবে ফিরবে কলকাতার রাস্তায়।
