নিউজ পোল ব্যুরো: পূর্ব বর্ধমান জেলার পলাশন ব্লকের বাঁশা গ্রামের যুবক সৌমেন চট্টোপাধ্যায়ের জীবনে এল বড় সাফল্যের মুহূর্ত। আসন্ন আইপিএল মরশুমে তিনি সুযোগ পেয়েছেন রাজস্থান রয়্যালস দলের নেট বোলার হিসেবে। গ্রামবাংলা থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার এই সুযোগকে ঘিরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে তাঁর পরিবার ও গোটা এলাকায়।
আরও পড়ুন:Kolkata Metro:আজও কম ছুটবে মেট্রো, বাড়তে পারে ব্যবধান
কলকাতার সুপার ডিভিশন লিগের পরিচিত ক্লাব ডালহৌসির নিয়মিত বোলার সৌমেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি নিয়মিত অনুশীলন ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়িয়ে চলেছেন। রাজস্থান রয়্যালসের স্পনসর সংস্থার উদ্যোগে দেশজুড়ে নেট বোলার নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। সেই নির্বাচনের অংশ হিসেবেই ওড়িশার ভূবনেশ্বরে একটি বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সেখানেই নিজের পারফরম্যান্সের জোরে নির্বাচকদের নজর কেড়ে নেন সৌমেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনজন নির্বাচিত নেট বোলারের অন্যতম হন তিনি।
এই সুযোগ পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত সৌমেন। তিনি বলেন, “এবার তিনজনকে নেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে আমি একজন। নেট বোলার হিসেবে সুযোগ পেয়ে অনেক ক্রিকেটার পরবর্তীতে আইপিএলের মূল দলে খেলেছেন এবং দেশের প্রতিনিধিত্বও করেছেন। আমিও সেই লক্ষ্যেই আরও কঠোর পরিশ্রম করে যেতে চাই।” সৌমেনের এই সাফল্যের পিছনে তাঁর পরিবারের অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বাবা সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় পেশায় ট্রাক্টর চালক এবং গ্রামীণ পূজারী। সীমিত সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি ছেলের স্বপ্নের পথে কখনও বাধা হয়ে দাঁড়াননি। বরং সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন এবং বলেছেন, সংসারের চিন্তা না করে যেন সৌমেন নিজের খেলায় মন দেয়।
নিউজ পোল বাংলা ইউটিউব লিঙ্ক:- https://youtube.com/@thenewspole
মা শ্রাবণী চট্টোপাধ্যায়ও ছেলের স্বপ্ন পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। সীমিত আয়ের সংসার সামলে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নেওয়া, এমনকি ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অর্থ সঞ্চয় করেও তিনি ছেলের ক্রিকেট যাত্রায় পাশে থেকেছেন। সৌমেনের এই সাফল্যে খুশির আবহ তৈরি হয়েছে বাঁশা গ্রামজুড়ে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে এলাকার মানুষ সকলেই গর্বিত তাঁর এই অর্জনে। অনেকেই মনে করছেন, গ্রামের এই তরুণের সাফল্য ভবিষ্যতে এলাকার আরও ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে। গ্রামবাংলার মাটি থেকে উঠে এসে আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়া সৌমেনের এই অর্জন নিঃসন্দেহে গোটা এলাকার জন্য এক গর্বের অধ্যায়।
